যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী কে? ডাউনিং স্ট্রিটের সমীকরণে আলোচনার কেন্দ্রে কারা

যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী কে? ডাউনিং স্ট্রিটের সমীকরণে আলোচনার কেন্দ্রে কারা

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। অ্যান্ডি বার্নাম আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ব্রিটেনের শাসনব্যবস্থায় নতুন এই নেতৃত্বের পরিবর্তনের সাথে সাথেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘নাম্বার ১১’ ডাউনিং স্ট্রিট অর্থাৎ কে হতে যাচ্ছেন দেশটির পরবর্তী অর্থমন্ত্রী বা চ্যান্সেলর অফ দ্য এক্সচেকার। ব্রিটিশ অর্থনীতির বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি এবং বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে চ্যান্সেলরের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যান্ডি বার্নামের নতুন মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে কার নাম ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে ওয়েস্টমিনিস্টারে এখন চলছে নানা জল্পনা। বিশ্লেষকদের মতে, বার্নাম এমন একজনকে খুঁজছেন যার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বোঝাপড়া যেমন ভালো থাকবে, তেমনি ব্রিটেনের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি দ্বিধাবোধ করবেন না। লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, এক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি হবে মূলত কৌশলগত।

বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী অর্থনৈতিক স্থবিরতা ব্রিটেনের নতুন সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। দেশটির নতুন অর্থমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অত্যন্ত কঠিন বাজেট প্রণয়নের মুখোমুখি হতে হবে। প্রথাগতভাবে, চ্যান্সেলর পদে এমন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয় যিনি করনীতি, জনসেবা এবং করপোরেট খাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষা চলছে যে, অভিজ্ঞ কোনো অর্থনীতিবিদ নাকি রাজনৈতিক বিশ্বস্ততায় এগিয়ে থাকা কোনো ঘনিষ্ঠ মিত্রকে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করছেন, অ্যান্ডি বার্নামের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তার অভিজ্ঞতা তাকে একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। তাই তার মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে এমন কাউকে দেখা যেতে পারে যিনি দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে ডাউনিং স্ট্রিটের দিকে, কারণ ব্রিটেনের আগামী দিনের অর্থনৈতিক ভাগ্য মূলত এই চ্যান্সেলরের পরিকল্পনার ওপরই নির্ভর করছে। মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা কমাতে নতুন অর্থমন্ত্রীর প্রথম পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই এখন বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।