যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন: চার বছরের বেশি অবস্থানের জন্য প্রয়োজন হবে কেন্দ্রীয় অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন: চার বছরের বেশি অবস্থানের জন্য প্রয়োজন হবে কেন্দ্রীয় অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের বেশি সময় অবস্থান করতে হলে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিতে হবে। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজ ক্ষমতাবলে শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে দিতে পারত, কিন্তু নতুন এই নির্দেশনায় সেই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা এবং অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ আরও জটিল হতে যাচ্ছে।

সাধারণত, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনারত শিক্ষার্থীদের আই-২০ (I-20) ফর্মের ভিত্তিতে ভিসা প্রক্রিয়ার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময়কাল প্রয়োজন অনুযায়ী বর্ধিত করতে পারত। তবে নতুন এই কড়াকড়ির ফলে, এখন শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি সরাসরি মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) কঠোর নজরদারির অধীনে চলে যাবে। এতে করে ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং যথাযথ নথিপত্র দাখিলে দেরি হলে শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরার চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক আকর্ষণ কমিয়ে দিতে পারে। বিশ্বজুড়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন এই ধরনের কড়াকড়ির কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। অনেক শিক্ষার্থী যাদের গবেষণার কাজ চার বছরের বেশি সময় ধরে চলে, তারা এখন এক ধরণের অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করবেন। বিশেষ করে পিএইচডি বা দীর্ঘমেয়াদী গবেষকদের জন্য কেন্দ্রীয় অনুমোদনের এই বাড়তি ধাপ বাড়তি মানসিক চাপের সৃষ্টি করবে।

অন্যদিকে, মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং শিক্ষার্থীদের ভিসার অপব্যবহার বন্ধ করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই নতুন নিয়ম কেবল প্রশাসনিক জটিলতাই বাড়াবে না, বরং উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মনে উদ্বেগের জন্ম দেবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি এবং তাদের অবস্থানের বিষয়ে নতুন এই নীতি কার্যকরের ফলে সামগ্রিকভাবে আমেরিকান উচ্চশিক্ষা খাতের ওপর কেমন প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।