মেনিনজাইটিস বি প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি: মেগ ড্রেপারের অকাল মৃত্যু ও পরিবারের বার্তা

মেনিনজাইটিস বি প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি: মেগ ড্রেপারের অকাল মৃত্যু ও পরিবারের বার্তা

বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই মেনিঙ্গোকক্কাল মেনিনজাইটিস বি (MenB)-এর সংক্রমণে ১৮ বছর বয়সী তরুণী মেগ ড্রেপারের মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো যুক্তরাজ্যে শোকের ছায়া ফেলেছিল। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর থেকে তার পরিবার তরুণ প্রজন্মের জীবন বাঁচাতে মেনিনজাইটিস বি-এর টিকার গুরুত্ব নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মেগের বাবা-মা বিশ্বাস করেন, যদি মেনিনজাইটিস বি-এর টিকা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজলভ্য হতো, তবে হয়তো তাদের সন্তানকে অকালে হারাতে হতো না।

মেনিনজাইটিস একটি অত্যন্ত দ্রুত বিস্তারকারী এবং প্রাণঘাতী রোগ, যা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের চারপাশের পর্দার প্রদাহ তৈরি করে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এই সংক্রমণের ঝুঁকিতে বেশি থাকে, কারণ তারা নতুন পরিবেশে জনাকীর্ণ আবাসে বসবাস করে এবং সামাজিক মেলামেশায় বেশি যুক্ত থাকে। চিকিৎসকরা বলছেন, মেনিনজাইটিস বি ব্যাকটেরিয়ার লক্ষণগুলো শুরুর দিকে সাধারণ ফ্লু বা ভাইরাল জ্বরের মতো মনে হতে পারে, যা অনেক সময় সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মেগের মৃত্যুর পর তার পরিবার বারবার নীতিনির্ধারকদের কাছে আবেদন জানিয়েছে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের জন্য এই টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হয়।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচিই হলো সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। মেনিনজাইটিস বি-এর টিকার প্রসারে মেগ ড্রেপারের পরিবারের লড়াই সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। তারা দাবি তুলেছেন, জীবন রক্ষাকারী এই টিকা যেন কেবল জাতীয় টিকা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্তই না হয়, বরং এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যেন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সরাসরি অবহিত করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশে মেনিনজাইটিস বি-এর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

মেগ ড্রেপারের পরিবারের মতো অনেক সচেতন অভিভাবক এখন সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যাতে কোনো পরিবারকে যেন আর অকালে এমন শোকার্ত হতে না হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই বড় জয়কে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। মেগের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং ভবিষ্যতে এমন করুণ মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে টিকাদানে উদ্বুদ্ধ করাই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তাদের মতে, সঠিক সময়ে টিকার একটি ডোজ দিতে পারলেই বদলে যেতে পারে কোনো তরুণের ভবিষ্যৎ এবং বেঁচে যেতে পারে বহু অমূল্য প্রাণ।

Leave a Reply