চরমোনাই পীরের অভিযোগ: অতি লোভের কারণে দেশে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা হয়নি

চরমোনাই পীরের অভিযোগ: অতি লোভের কারণে দেশে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা হয়নি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ইসলামকে গভীরভাবে ভালোবাসে এবং তারা চায় দেশের শাসনব্যবস্থা ইসলামের শরিয়াহ অনুযায়ী পরিচালিত হোক। তবে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সীমাহীন ক্ষমতার লোভের কারণেই এ দেশে ইসলামী হুকুমত বা শরিয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। রোববার বিকেলে পাবনার কাশীনাথপুরের একটি মাদ্রাসা মিলনায়তনে আয়োজিত দলের জেলা মজলিসে শুরার এক অধিবেশনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই শীর্ষ নেতা এসব কথা বলেন। দলটির পাবনা জেলা পূর্ব শাখা এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

চরমোনাই পীর তার বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করেই অভিযোগ করেন যে, কিছু মহল আমেরিকা ও ভারতের আনুকূল্য লাভের আশায় তাদের নির্বাচনী ইশতেহার থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই মহলগুলো বিদেশি শক্তিগুলোকে আশ্বস্ত করেছে যে, তারা দেশের শাসনভার গ্রহণ করলে ইসলামী শরিয়াহর আলোকে দেশ পরিচালনা করবে না। মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এমন ব্যক্তিদের সম্পর্কে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যারা ইসলামের কথা বলে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এই ধরনের অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রায়শই উত্থাপিত হয়, যেখানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতার বিতর্ক একটি চলমান বিষয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে দেশের রাজনীতিতে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার রয়েছে এবং তাদের এই অভিযোগ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও চরমোনাই পীর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ভয়াবহ বন্যা চলছে, যা অসংখ্য মানুষকে অসহায় ও পানিবন্দী করে রেখেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সকল নেতা-কর্মীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সাথে, চরমোনাই পীর সরকারের ত্রাণ তৎপরতা আরও জোরদার করতে এবং পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার ও তাদের পুনর্বাসনে আরও ব্যাপক পরিসরে কাজ করার অনুরোধ করেন। বাংলাদেশের মতো বন্যাপ্রবণ দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম, এবং চরমোনাই পীরের এই আহ্বান সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ওই অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম দেশের সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ধর্ষণ, খুন, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য সকল ধরনের অপরাধ বন্ধ করার একমাত্র সমাধান হলো কোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। মাওলানা কাইয়ূম আরও জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে প্রকৃত অর্থেই অর্থবহ এবং শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। তার এই বক্তব্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আদর্শ ও লক্ষ্যকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে, যা সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় অনুশাসনকে অপরিহার্য মনে করে।

অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলনের আমির পাবনা জেলা পূর্ব শাখার ২০২৭-২৮ সেশনের জন্য একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এই নতুন কমিটিতে মাওলানা সোলাইমান জাহাঙ্গীরকে সভাপতি এবং মো. রাশিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করতে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে চায়। এই ধরনের কমিটি গঠন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য তাদের আদর্শ প্রচার এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।