নিজেদের বাড়ির পানির পাইপ মেরামতে বাসিন্দাদের ওপর ৭ হাজার পাউন্ডের বোঝা, সংকটে ওয়েলসের পরিবারগুলো

নিজেদের বাড়ির পানির পাইপ মেরামতে বাসিন্দাদের ওপর ৭ হাজার পাউন্ডের বোঝা, সংকটে ওয়েলসের পরিবারগুলো

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে বসবাসরত একদল বাসিন্দা বর্তমানে এক নজিরবিহীন সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন। নিজেদের বাড়ির বাইরের পানির পাইপলাইন মেরামতের জন্য ওয়েলশ ওয়াটারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারের ওপর প্রায় ৭ হাজার পাউন্ডের খরচ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের মালিকানা তাদের নয়, বরং এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকদের ওপর বর্তায়। মাত্র ১১ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বাসিন্দাদের।

এই ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ বাসিন্দারা দাবি করছেন, হঠাৎ করে এত বিশাল অংকের অর্থ জোগাড় করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, দশকের পর দশক ধরে তারা পানির বিল নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন, অথচ এখন পাইপের মালিকানা নিয়ে এই অদ্ভুত জটিলতায় তাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। পাইপটি মূলত জনপথের নিচে অবস্থিত হওয়ায় সেটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি কি না, তা নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ওয়েলশ ওয়াটারের এমন কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করে একে ‘অমানবিক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

পাবলিক ইউটিলিটি আইনের মারপ্যাঁচ এবং পাইপলাইনের দায়বদ্ধতা নির্ধারণের অস্পষ্টতা এই সংকটের মূল কারণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। ব্রিটেনের অনেক পুরনো এলাকায় পানির লাইনগুলো ব্যক্তিগত এবং সরকারি মালিকানার সীমানা নির্ধারণে প্রায়ই জটিলতা দেখা দেয়। ওয়েলশ ওয়াটারের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা এখন আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এমন বিশাল অংকের বিল চাপিয়ে দেওয়া অত্যন্ত অযৌক্তিক।

এই ঘটনার ঢেউ এখন পুরো যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে, যদি পানির লাইন মেরামতের দায় নাগরিকদেরই হয়, তবে নিয়মিত ‘ওয়াটার রেট’ বা বিল কেন নেওয়া হচ্ছে? বর্তমানে বাসিন্দাদের দেওয়া ১১ দিনের সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। যদি এই সময়ের মধ্যে মেরামত সম্পন্ন না হয় বা বিল পরিশোধ করা না হয়, তবে ওয়েলশ ওয়াটার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় তাদের অবস্থানে নমনীয় হয় কি না, নাকি স্থানীয় বাসিন্দাদের সত্যিই পকেট থেকে এই বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই ঘটনাটি একই সঙ্গে ইউটিলিটি সেবার দায়বদ্ধতা ও গ্রাহক অধিকারের সুরক্ষা নিয়ে এক বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply