ঢাকায় ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের এক বছর: বিচার ও উত্তরের অপেক্ষায় স্বজনরা

ঢাকায় ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের এক বছর: বিচার ও উত্তরের অপেক্ষায় স্বজনরা

ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে সামরিক জেট বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে এই সপ্তাহে। এক বছর আগে ঘটা এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ছিল কোমলমতি শিক্ষার্থী। ঘটনার দীর্ঘ এক বছর অতিবাহিত হলেও নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলো এখনও সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার সঠিক কারণ সম্পর্কে জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা তাদের মনে আজও টাটকা, কিন্তু সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা জবাব না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় জনমনে।

দুর্ঘটনার পরপরই সরকারি পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, তাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ বা দায়বদ্ধতার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা সামনে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করছেন যে, কোনো ধরনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ায় তারা এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এই বিমান দুর্ঘটনাটি বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে অন্যতম একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। সেই ভয়াবহ দিনে আকাশ থেকে যুদ্ধবিমানটি সরাসরি স্কুলের ছাদে আছড়ে পড়ে, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

নিহত শিশুদের অভিভাবকরা এখন সরকারের কাছে ঘটনার যথাযথ ব্যাখ্যা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে, তার জন্য স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য। তবে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ধীরগতির পরিচয় দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। এদিকে, বিদ্যালয়টির কার্যক্রম পুনরায় চালু হলেও নিহত শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং সেই দিনের বিভীষিকাময় স্মৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে এখনও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি যেন দীর্ঘস্থায়ী না হয়, সেই বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর জন্য মানবাধিকার কর্মীরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। নিহতদের স্মরণে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন প্রার্থনা ও শোকসভা আয়োজিত হয়েছে, যেখানে সবাই দ্রুততম সময়ে এই ট্র্যাজেডির প্রকৃত কারণ জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলো তাদের দাবি আদায়ে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার করেছে।

Leave a Reply