বাংলাদেশের তরুণদের ফুটবলীয় অনুপ্রেরণা হতে পারে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স: রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে

বাংলাদেশের তরুণদের ফুটবলীয় অনুপ্রেরণা হতে পারে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স: রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে

বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফ্রান্স ফুটবল দলের ধারাবাহিক সাফল্যের ধারা বাংলাদেশের উদীয়মান তরুণ ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। তিনি মনে করেন, ফরাসি ফুটবলের এই জয়যাত্রা কেবল একটি দেশের সাফল্য নয়, বরং এটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমী তরুণদের স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করে। রাষ্ট্রদূত বলেন, মিশেল প্লাতিনি কিংবা জিনেদিন জিদানের মতো কিংবদন্তি ফুটবলাররা যেভাবে ফ্রান্সে একটি ফুটবল বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, বর্তমান সময়ের কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকারাও একইভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের গভীর আবেগ ও অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এই দেশটিতে ফুটবলের যে প্রাণশক্তি রয়েছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, একটি মানসম্পন্ন ফুটবল দল গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা এবং মাঠের ভেতর খেলোয়াড়দের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ। ফ্রান্সের জাতীয় দল যে ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব’-এর দর্শনে বিশ্বাসী, সেই মূল্যবোধই তাদের খেলার মাঠে ঐক্যবদ্ধ রাখে। বিশেষ করে কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং দলীয় সংহতিই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যকার ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ফুটবলের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান, খেলার মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে ফ্রান্স ও স্পেন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। তিনি ব্যক্তিগত স্মৃতিরোমন্থন করে ১৯৮৪ সালের ইউরো ফাইনালের কথা উল্লেখ করেন, যা ফুটবলের প্রতি তাঁর আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। রাষ্ট্রদূত জানান, স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সাথে যৌথভাবে ম্যাচ উপভোগ করার পরিকল্পনা তাদের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও বন্ধুত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।

পরিশেষে, বাংলাদেশে অবস্থানরত ফরাসি সম্প্রদায় এবং স্থানীয় ফুটবল সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স সবসময়ই সুন্দর ফুটবল উপহার দেওয়ার চেষ্টা করে। এমবাপ্পের মতো তারকারা যেভাবে দলের স্বার্থে নিজেকে বিলিয়ে দেন, সেই বার্তাটি বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য একটি বড় শিক্ষা হতে পারে। ফ্রান্স যদি ফাইনালে জায়গা করে নেয়, তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাণবন্ত স্থানে গিয়ে বাংলাদেশি দর্শকদের সাথে একত্রে খেলা উপভোগ করার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত মনে করেন, ফুটবলের এই সর্বজনীন ভাষা দুই দেশের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বাংলাদেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।