জ্বালানি সংকটে রানওয়েতে ইজিজেট যাত্রীদের দীর্ঘ অবরুদ্ধ ভোগান্তি
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাজেট এয়ারলাইন ইজিজেটের একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা গত সপ্তাহে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। যান্ত্রিক জটিলতা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিমানটি রানওয়েতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে বাধ্য হয়। এতে বিমানে থাকা অসহায় যাত্রীরা গভীর রাত পর্যন্ত চরম আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করেন। ভুক্তভোগী এক যাত্রী জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরদিন সকাল ৬টার দিকে তিনি কোনোমতে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। এই ঘটনাটি এভিয়েশন খাতে যাত্রীসেবার মান এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও জ্বালানি সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় অপ্রত্যাশিত বাধার মুখে পড়ে। বিমানবন্দরের লজিস্টিক সাপোর্টে ঘাটতি কিংবা কারিগরি ত্রুটির কারণে জ্বালানি ট্যাঙ্কার সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রানওয়েতে আটকে থাকার সময় যাত্রীদের পর্যাপ্ত খাদ্য, পানীয় বা সঠিক তথ্যের সরবরাহ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিমানের ভেতর শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট সহ্য করেছেন। অনেক যাত্রীই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এয়ারলাইন্সগুলোর জরুরি প্রোটোকল মেনে চলার ব্যর্থতারই প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন নীতিমালা অনুযায়ী, যাত্রী সুরক্ষায় এবং রানওয়েতে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার সময় তাদের মানসম্মত সেবা প্রদান করা বাধ্যতামূলক। ইজিজেটের মতো একটি জনপ্রিয় এয়ারলাইন কীভাবে এই বিপর্যয় এড়াতে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে এখন কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হলেও, যাত্রীদের এই হয়রানি এবং মানসিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আকাশপথে ভ্রমণে যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এয়ারলাইনগুলোর প্রাথমিক দায়িত্ব। ঘনবসতিপূর্ণ এয়ারপোর্টগুলোতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা এই ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ইজিজেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি রোধে তারা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তবে ভুক্তভোগী যাত্রীরা আইনি প্রতিকার এবং আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন। আকাশপথে এমন বিশৃঙ্খলা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্রমণে আস্থার সংকট তৈরি করছে, যা কাটিয়ে উঠতে কঠোর প্রশাসনিক তদারকি প্রয়োজন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
