বাড়ির বর্ধিত মূল্য যেভাবে বদলে দিতে পারে আপনার ভাগ্য: জেনে নিন হোম ইক্যুইটি কাজে লাগানোর সহজ উপায়

বাড়ির বর্ধিত মূল্য যেভাবে বদলে দিতে পারে আপনার ভাগ্য: জেনে নিন হোম ইক্যুইটি কাজে লাগানোর সহজ উপায়

বিশ্বজুড়ে আবাসন খাতের চড়া মূল্যের কারণে সাধারণ বাড়িওয়ালাদের সম্পত্তির আর্থিক মূল্য বা ‘হোম ইক্যুইটি’ রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের জন্যই এটি একটি বড় আর্থিক সুযোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ির এই বর্ধিত মূল্যকে বুদ্ধিমানের মতো কাজে লাগিয়ে সহজেই প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ বা তারল্যসংকট দূর করা সম্ভব। বাড়ি সংস্কার, নতুন ব্যবসা শুরু, উচ্চশিক্ষা বা পুরোনো উচ্চ-সুদের ঋণ পরিশোধের মতো বড় খরচের প্রধান উৎস হতে পারে এই হোম ইক্যুইটি।

সাধারণত একটি বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য থেকে সেই বাড়ির বিপরীতে থাকা বকেয়া গৃহঋণের (মর্টগেজ) পরিমাণ বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে, তাকেই ‘হোম ইক্যুইটি’ বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ৫০ লাখ টাকা হয় এবং সেখানে ঋণের পরিমাণ ৩০ লাখ টাকা বাকি থাকে, তবে ওই বাড়ির মালিকের ইক্যুইটি বা নিট সম্পদের পরিমাণ ২০ লাখ টাকা। বছরের পর বছর নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং আবাসন বাজারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে এই ইক্যুইটির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে, যা মূলত একটি অলস সম্পদ হিসেবে পড়ে থাকে।

এই জমে থাকা ইক্যুইটিকে ব্যবহারযোগ্য নগদে রূপান্তর করার প্রধানত তিনটি জনপ্রিয় উপায় রয়েছে। প্রথমটি হলো ‘হোম ইক্যুইটি লোন’। একে দ্বিতীয় বন্ধকী ঋণও বলা হয়ে থাকে। এর আওতায় এককালীন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নির্দিষ্ট সুদে ঋণ নেওয়া যায় এবং তা মাসিক কিস্তিতে শোধ করতে হয়। দ্বিতীয় উপায়টি হলো ‘হোম ইক্যুইটি লাইন অব ক্রেডিট’ বা হিলক (HELOC)। এটি মূলত একটি ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করে, যেখানে গ্রাহক তার ইক্যুইটির ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থ তুলতে পারেন এবং কেবল ব্যবহৃত অর্থের ওপর সুদ প্রদান করতে হয়।

তৃতীয় আরেকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো ‘ক্যাশ-আউট রিফাইনান্সিং’। এই প্রক্রিয়ায় আগের গৃহঋণটি বাতিল করে একটি নতুন এবং বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়। নতুন ঋণের অর্থ দিয়ে আগের ঋণটি পরিশোধ করার পর বাকি অতিরিক্ত অংশটি বাড়ির মালিক সরাসরি নগদ অর্থ হিসেবে হাতে পান। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, বর্তমানের অস্থির সুদের হারের বাজারে রিফাইনান্সিং করার আগে অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক খরচের হিসাব কষে নেওয়া উচিত, যাতে পরবর্তীতে কিস্তি পরিশোধে বড় কোনো চাপ তৈরি না হয়।

তবে ইক্যুইটি ভাঙানোর ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, বাড়িকে জামানত রেখে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার বড় ঝুঁকি হলো—কোনো কারণে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে নিজের প্রিয় মাথা গোঁজার ঠাঁইটি হারানোর আশঙ্কা থাকে। এছাড়া আবাসন বাজারে হঠাৎ ধস নামলে ঋণের পরিমাণ বাড়ির বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যেতে পারে, যাকে আর্থিক ভাষায় ‘আন্ডারওয়াটার মর্টগেজ’ বলা হয়। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পেশাদার আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া এবং ঋণের অর্থ কেবল উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।