বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন জুড বেলিংহাম: ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে ভাঙলেন লিনেকারের রেকর্ড

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লেন জুড বেলিংহাম: ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে ভাঙলেন লিনেকারের রেকর্ড

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে ইংল্যান্ডের হয়ে এক অনন্য এবং অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তরুণ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তি ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মূহূর্তে এক দুর্দান্ত গোল করে তিনি এই কীর্তি অর্জন করেন। এই গোলের মাধ্যমে বেলিংহাম চলতি বিশ্বকাপের একটি আসরে ব্যক্তিগত সপ্তম গোল করার গৌরব অর্জন করলেন। এর আগে ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলার একক কোনো বিশ্বকাপ আসরে সাতটি গোল করতে পারেননি। ফলে প্রথম ইংরেজ ফুটবলার হিসেবে একক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নতুন এক রেকর্ড গড়লেন এই তারকা ফুটবলার।

ম্যাচটিতে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। দুই দলের আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ম্যাচটি যখন এক রোমাঞ্চকর পর্যায়ে পৌঁছায়, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন বেলিংহাম। ম্যাচের শেষ দিকে তাঁর করা অসাধারণ গোলটি কেবল ইংল্যান্ডের জন্যই স্বস্তির বার্তা বয়ে আনেনি, বরং ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে দিয়েছে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে তাঁর নেওয়া নিখুঁত শটটি জাল স্পর্শ করতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারিতে থাকা হাজারো ইংলিশ সমর্থক।

বেলিংহামের এই চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভেঙে গেছে দীর্ঘদিনের পুরোনো এক রেকর্ড। এর আগে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৬টি গোল করার রেকর্ড গড়েছিলেন কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার। দীর্ঘ চার দশক ধরে অক্ষুণ্ন থাকা সেই রেকর্ড এবার নিজের করে নিলেন ২৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ তারকা। একজন মিডফিল্ডার হিসেবে খেলে স্ট্রাইকারদের টপকে এই রেকর্ড গড়া বেলিংহামের ক্যারিয়ারে আরও একটি বড় পালক যুক্ত করল। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ফুটবলে তাঁর মতো বহুমুখী প্রতিভার খেলোয়াড় মেলা ভার।

চলতি বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন জুড বেলিংহাম। টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচেই তিনি তাঁর অসামান্য দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ক্লাবের হয়ে চমৎকার একটি মৌসুম কাটানোর পর জাতীয় দলের জার্সিতেও নিজের সেই ফর্ম ধরে রেখেছেন তিনি। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি আক্রমণভাগে উঠে গিয়ে গোল করার অনন্য ক্ষমতা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারে পরিণত করেছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এক ম্যাচ, যেখানে চরম চাপের মুখেও তিনি তাঁর শান্ত মানসিকতা ও খেলার ধার বজায় রেখেছেন।

বিশ্বকাপের এই আসরে বেলিংহামের এই পারফরম্যান্স দলটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এমন এক হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দলের জয়ে ও ব্যক্তিগত অর্জনে প্রধান ভূমিকা পালন করে বেলিংহাম প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর এই অবিস্মরণীয় কীর্তির পর ফুটবল বিশ্বে প্রশংসার ঝড় বইছে। এই রেকর্ডের পর ইংল্যান্ডের ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী, যা দলকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Leave a Reply