ফুটবল বিশ্বের মহাকাব্যিক লড়াইয়ে নতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হলো ক্রীড়ামোদিরা। আর্জেন্টিনার মহানায়ক লিওনেল মেসির বিদায়ী স্বপ্নকে অশ্রুসিক্ত করে ফিফা বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করে নিল স্পেন। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের মূল নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন স্পেনের বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ফুটবল ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য সব বড় অর্জন নিজের ঝুলিতে পুরে যেন ‘ফুটবলকে পূর্ণতা’ দিলেন এই তরুণ তুর্কি। অপরদিকে, ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে এসে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
মাঠের লড়াইয়ে স্পেনের আক্রমণভাগের গতি এবং কৌশলের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ। বিশেষ করে ডান প্রান্ত দিয়ে লামিন ইয়ামালের একের পর এক আক্রমণ আলবিসেলেস্তেদের রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেয়। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সাফল্যের পর এবার বিশ্বমঞ্চেও নিজের জাত চেনালেন এই বার্সেলোনা তারকা। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তেই তার পরিণত ফুটবল শৈলী দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই এমন অবিশ্বাস্য চাপ সামলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার কৃতিত্ব ফুটবল ইতিহাসে বিরল।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের দুই প্রান্তে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি চিত্র। একদিকে যখন স্প্যানিশ শিবিরে চলছে বাঁধভাঙা উল্লাস, ঠিক তখনই মাঠের মাঝে হাঁটু গেড়ে বসে কাঁদতে দেখা যায় লিওনেল মেসিকে। আর্জেন্টিনার সতীর্থদের ব্যর্থতা এবং মাঠের স্তিমিত পারফরম্যান্সের কারণে মেসির শেষ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্নটি অধরাই থেকে গেল। বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে দলের কৌশলগত ভুল এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা মেসিকে একপ্রকার একাকী করে দিয়েছিল, যা আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্তদের মাঝে তীব্র হতাশার জন্ম দিয়েছে।
এই ফাইনালটিকে অনেকেই দেখছেন ফুটবল বিশ্বের এক ঐতিহাসিক ব্যাটন বদল বা প্রজন্মান্তরের প্রতীক হিসেবে। বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমি থেকে উঠে আসা দুই মহাতারকার এই দ্বৈরথ ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ আপ্লুত করেছে। একসময় যে ন্যু ক্যাম্পে মেসি নিজের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন, আজ সেই ক্লাবেরই নতুন উত্তরসূরি লামিন ইয়ামাল আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষস্থানটি দখল করলেন। মেসির কাছ থেকে যেন রাজমুকুটটি ছিনিয়ে নিলেন ইয়ামাল।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলে নেওয়ার মাধ্যমে লামিন ইয়ামাল প্রমাণ করলেন যে, আগামী এক দশক ফুটবল বিশ্বকে শাসন করার সব যোগ্যতাই তার রয়েছে। অন্যদিকে, এই পরাজয় সত্ত্বেও লিওনেল মেসির গৌরবময় ক্যারিয়ার এবং ফুটবলে তার অবদান চিরকাল অম্লান থাকবে। তবে আজকের রাতটি ছিল পুরোপুরি স্পেনের এবং বিশেষ করে তরুণ উইঙ্গার ইয়ামালের, যিনি খুব অল্প বয়সেই ফুটবলীয় মহাকাব্যের শেষ পাতাটি লিখে ফেললেন।
