Dhaka ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসা ১০ বছরে প্রথমবার! আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মিয়ানমারের কারাবন্দি নেতা অং সান সু চি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি দীর্ঘ আড়াই বছর পর প্রথমবার বাইরের কোনো পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দেশটির ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত কিছু নতুন ছবিতে তাকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) এক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম সু চির কোনো ছবি বা তার শারীরিক অবস্থার সরাসরি কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে এলো, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকাশিত ছবিগুলোতে সু চিকে দৃশ্যত সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে, যা তার অনুসারী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমিয়েছে।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা এক গোপন স্থানে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আইসিআরসি-র পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার কারণে এ বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমাগত চাপ এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মুখে সামরিক সরকার কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিতেই এই ছবিগুলো প্রকাশ করেছে। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে গৃহবন্দি করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সাজানো মামলায় তাকে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। তার সঙ্গে পরিবার, আইনজীবী এমনকি কোনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরও যোগাযোগের অনুমতি ছিল না।

অং সান সু চির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগজনক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তার পরিবার এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বারবার অভিযোগ করে আসছিল যে, সু চিকে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং তার নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ। আজকের এই ছবি প্রকাশের পর সেই জল্পনা-কল্পনার কিছুটা অবসান ঘটল। তবে ৮১ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ী নেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের পাশাপাশি আসিয়ান ও বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ মিয়ানমারের জান্তা সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, একে কেবল একটি প্রতীকী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মিয়ানমারের প্রকৃত রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করতে হলে সু চিসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিকল্প নেই।

এদিকে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জান্তা বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে সামরিক সরকার বর্তমানে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন জান্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সামরিক জান্তা এই ধরনের সীমিত পরিসরের কূটনৈতিক চাল চালছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। অং সান সু চির এই বিরল উপস্থিতি মিয়ানমারের রাজনীতিতে কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে কি না এবং এর মাধ্যমে দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধের কোনো অবসান ঘটে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, উত্তেজনায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

আসা ১০ বছরে প্রথমবার! আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মিয়ানমারের কারাবন্দি নেতা অং সান সু চি

Update Time : ১২:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি দীর্ঘ আড়াই বছর পর প্রথমবার বাইরের কোনো পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। দেশটির ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত কিছু নতুন ছবিতে তাকে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) এক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম সু চির কোনো ছবি বা তার শারীরিক অবস্থার সরাসরি কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে এলো, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকাশিত ছবিগুলোতে সু চিকে দৃশ্যত সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে, যা তার অনুসারী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমিয়েছে।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা এক গোপন স্থানে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আইসিআরসি-র পক্ষ থেকেও নিরাপত্তার কারণে এ বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমাগত চাপ এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মুখে সামরিক সরকার কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিতেই এই ছবিগুলো প্রকাশ করেছে। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে গৃহবন্দি করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সাজানো মামলায় তাকে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। তার সঙ্গে পরিবার, আইনজীবী এমনকি কোনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরও যোগাযোগের অনুমতি ছিল না।

অং সান সু চির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগজনক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তার পরিবার এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বারবার অভিযোগ করে আসছিল যে, সু চিকে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং তার নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ। আজকের এই ছবি প্রকাশের পর সেই জল্পনা-কল্পনার কিছুটা অবসান ঘটল। তবে ৮১ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ী নেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের পাশাপাশি আসিয়ান ও বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ মিয়ানমারের জান্তা সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, একে কেবল একটি প্রতীকী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, মিয়ানমারের প্রকৃত রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করতে হলে সু চিসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিকল্প নেই।

এদিকে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জান্তা বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে সামরিক সরকার বর্তমানে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখন জান্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সামরিক জান্তা এই ধরনের সীমিত পরিসরের কূটনৈতিক চাল চালছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। অং সান সু চির এই বিরল উপস্থিতি মিয়ানমারের রাজনীতিতে কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে কি না এবং এর মাধ্যমে দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধের কোনো অবসান ঘটে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।