বিনিয়োগ আকর্ষণে পিছিয়ে বাংলাদেশ: ঘানা, উগান্ডা ও কঙ্গোর চেয়েও কেন কঠিন পরিস্থিতি?

বিনিয়োগ আকর্ষণে পিছিয়ে বাংলাদেশ: ঘানা, উগান্ডা ও কঙ্গোর চেয়েও কেন কঠিন পরিস্থিতি?

বৈশ্বিক বিনিয়োগের মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক ও বিনিয়োগ পরিবেশ বিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন ঘানা, উগান্ডা এবং কঙ্গোর মতো দেশগুলোর চেয়েও পিছিয়ে পড়েছে। অথচ একসময় এই দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ও সম্ভাবনা অনেক বেশি ইতিবাচক বলে বিবেচিত হতো। বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এই পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকার এই দেশগুলো তাদের বিনিয়োগ নীতিতে আমূল সংস্কার এনেছে। তারা ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণ (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস) সূচকে উন্নতির পাশাপাশি কর কাঠামোতে বিশেষ ছাড় এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো দীর্ঘসূত্রতা এবং নীতি সহায়তার অভাব প্রকট। বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের অনিশ্চয়তা এবং ডলার সংকটের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্প হাতে নিতে দ্বিধাবোধ করছেন। এছাড়া, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং ঋণের উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘানা বা কঙ্গোর মতো দেশগুলো প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি খনিজ ও কৃষি খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্য যে ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে, বাংলাদেশ তার তুলনায় প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বা তৈরি পোশাক খাতের বাইরে বহুমুখী বিনিয়োগের যে সম্ভাবনা ছিল, তা যথাযথ প্রচারের অভাব এবং লজিস্টিক সাপোর্টের সীমাবদ্ধতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নীতির অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফাটল ধরাচ্ছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিনিয়োগ আকর্ষণে কেবল কর ছাড় দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, চুক্তির সুরক্ষা এবং আইনি জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। যদি দ্রুত নীতি সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে এই পিছিয়ে পড়ার ধারা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে।