দেশের ৭ জেলায় ভয়াবহ বন্যা: পানিবন্দী লাখো মানুষ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

দেশের ৭ জেলায় ভয়াবহ বন্যা: পানিবন্দী লাখো মানুষ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১

দেশের উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলায় চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বন্যাদুর্গত এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। পানিবন্দী মানুষেরা তীব্র খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ আশপাশের জেলাগুলো। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। গবাদি পশু ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক দল উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট প্রকট হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন এবং নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় বন্যার তীব্রতা বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে বা উঁচু বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নদী ড্রেজিং ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন পরিবেশবিদরা।

এদিকে বন্যা কবলিত এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জেলা প্রশাসন। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।