যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে বড় ধরনের আর্থিক পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছে স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। নগর কর্তৃপক্ষের (কাউন্সিল) প্রস্তাবিত একটি নতুন পরিকল্পনার অধীনে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে তাদের কর্মীদের প্রতিটি পার্কিং স্পেসের জন্য বার্ষিক ৭৫০ পাউন্ড পর্যন্ত চার্জ প্রদান করতে হতে পারে। এই প্রস্তাবিত ‘ওয়ার্কপ্লেস পার্কিং লেভি’ বা কর্মস্থল পার্কিং শুল্ক নিয়ে কার্ডিফের ব্যবসায়িক মহলে ইতিমধ্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক ব্যবসায়ী আশঙ্কা করছেন, এই বাড়তি খরচের বোঝা স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে এবং ছোট-বড় অনেক ব্যবসাই এর ফলে ‘পঙ্গু’ হয়ে যেতে পারে।
কাউন্সিল কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো নগরীর যানজট নিরসন করা এবং জনসাধারণের জন্য উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার তহবিল সংগ্রহ করা। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চত্বরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা রয়েছে, তাদের কাছ থেকেই এই বার্ষিক ফি আদায় করা হবে। যদিও প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছে যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এই শুল্কের আওতার বাইরে থাকতে পারে, তবুও সামগ্রিক বাজারের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বড় খুচরা বিক্রেতা এবং অফিসভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই নিয়মের ফলে সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপের সম্মুখীন হবে।
ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ এবং চেম্বার অফ কমার্সের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন যে, বর্তমানে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে যখন ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই ধরনের নতুন করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়। তাদের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠান হয়তো এই খরচ মেটাতে গিয়ে কর্মীদের বেতন হ্রাস করতে বাধ্য হবে অথবা অতিরিক্ত খরচের এই বোঝা এড়াতে শহর থেকে নিজেদের ব্যবসা গুটিয়ে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে। এর ফলে কার্ডিফের প্রাণকেন্দ্র থেকে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নগরীর রাজস্ব আদায়েই বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
বিপরীত দিকে, পরিবেশবাদী এবং নগর পরিকল্পনাবিদরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন যে, যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যামের মতো শহরগুলোতে ইতিপূর্বেই এই ধরনের পার্কিং শুল্ক সফলভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের হার কমেছে, অন্যদিকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে বাস ও ট্রাম নেটওয়ার্কের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। কার্ডিফ কাউন্সিলও একই পথে হাঁটতে চাইছে যাতে শহরের কার্বন নিঃসরণ কমানো যায় এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই প্রস্তাবনাটি নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি দীর্ঘমেয়াদী গণ-পরামর্শ (Public Consultation) শুরু হবে। সেখানে ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের মতামত গ্রহণ করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে কাউন্সিলকে জনমতের পাশাপাশি এর ফলে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তবে আপাতত এই পার্কিং চার্জ কার্ডিফের ব্যবসায়িক মহলে যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, তা স্পষ্ট এবং এর সমাধান কোন পথে আসবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
