ইংলিশ ফুটবলের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং মাঠের বাইরের তীব্র লড়াইয়ের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বস স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তার সময়ের অন্যতম সেরা প্রতিদ্বন্দ্বী কেভিন কিগানের প্রতি। সম্প্রতি এক বিশেষ প্রতিক্রিয়ায় স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন উল্লেখ করেছেন যে, কেভিন কিগান সবসময় তার ফুটবলীয় আবেগ ও খেলার প্রতি গভীর ভালোবাসাকে নিজের অন্তরে লালন করেছেন। এই দুই কিংবদন্তি ব্রিটিশ ফুটবলের এমন এক স্বর্ণালী সময়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যা আজও সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মনে গভীর রেখাপাত করে আছে।
নব্বয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং কেভিন কিগানের নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের মধ্যকার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ব্রিটিশ ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিউক্যাসেলের বিশাল পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শিরোপা হাতছাড়া করা এবং পরবর্তী সময়ে কিগানের সেই বিখ্যাত আবেগঘন টেলিভিশন সাক্ষাৎকার আজও ক্রীড়া বিশ্বে বহুলচর্চিত। মাঠের উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ ও কৌশলগত লড়াইয়ের পরেও এই দুই আইকনিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ সবসময় বজায় ছিল, যা আজকের দিনেও তরুণ কোচ ও ফুটবলারদের জন্য একটি বড় শিক্ষা।
স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তার মূল্যায়নে আরও জানান যে, কিগানের ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার সততা এবং খেলার প্রতি তার অকৃত্রিম অনুরাগ। খেলোয়াড় এবং ম্যানেজার—উভয় ভূমিকাতেই কিগান তার দেশের ফুটবল সংস্কৃতিতে অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক এই খেলোয়াড় ও কোচ কেবল মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই নয়, বরং তার ক্যারিশম্যাটিক উপস্থিতি দিয়ে ব্রিটিশ ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ফুটবল বিশ্ব যখন আধুনিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার দিকে ধাবিত হচ্ছে, ঠিক তখন ফার্গুসনের এই মন্তব্য পুরনো দিনের আবেগ, ক্লাবের প্রতি নিবেদন এবং ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার কথা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।
