চলতি করবর্ষের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আজ ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে শেষ হতে চলেছে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক হিসাব ও কর পরিশোধ করতে সক্ষম হননি, তাদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী সময়সীমা বাড়ানোর (এক্সটেনশন) সুযোগ রয়েছে। কর আইন অনুযায়ী, কোনো করদাতা যদি ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কারণে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে বাড়তি সময় নিতে পারেন। তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই এক্সটেনশন কেবল রিটার্ন জমার সময় বাড়ায়, কিন্তু কর পরিশোধের দায়বদ্ধতাকে মকুফ করে না।
কর সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের রাজস্ব বোর্ডের নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় মূলত কেন আপনি নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন না, তার একটি যৌক্তিক কারণ দর্শাতে হয়। আবেদনটি অনুমোদিত হলে সাধারণত অতিরিক্ত দুই থেকে ছয় মাসের সময় পাওয়া যায়। তবে দেরি হওয়ার জন্য কোনো জরিমানা এড়াতে হলে আনুমানিক করের একটি বড় অংশ আজকের মধ্যেই পরিশোধ করা বাঞ্ছনীয়। কারণ রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হলেও, সময়মতো কর পরিশোধ না করলে বর্ধিত করের ওপর সুদ আরোপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ট্যাক্স ফাইল করার এই প্রক্রিয়াটি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন অনেক সহজ হয়েছে। করদাতারা তাদের নিজ নিজ দেশের অনলাইন ট্যাক্স পোর্টালে লগ-ইন করে ‘এক্সটেনশন রিকোয়েস্ট’ অপশনটি খুঁজে পেতে পারেন। আবেদন করার সময় আপনার ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN), গত বছরের আয়-ব্যয়ের খতিয়ান এবং চলতি বছরের সম্ভাব্য আয়ের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা হাতের কাছে রাখা জরুরি। কোনো জটিলতা এড়াতে অনুমোদিত ট্যাক্স কনসালট্যান্ট বা নিবন্ধিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সহায়তা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
অনেকে মনে করেন এক্সটেনশন নিলে অডিট হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, তবে কর বিশেষজ্ঞরা এই ধারণাকে নাকচ করে দিয়েছেন। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া যা করদাতাদের বাড়তি সময় দিয়ে সঠিক তথ্য প্রদান নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। সবশেষে, আজ রাত ১২টার মধ্যে যদি আবেদন সম্পন্ন না করা হয়, তবে পরবর্তী পর্যায়ে জরিমানা গুণতে হতে পারে। তাই যারা এখনো হিসাব চূড়ান্ত করতে পারেননি, তাদের অনতিবিলম্বে সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এক্সটেনশন আবেদন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং আইনি জটিলতা থেকে বাঁচতে কর সংক্রান্ত প্রতিটি নথি যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
