মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবার ভয়াল থাবা: ছেলের অকাল মৃত্যুতে জনসচেতনতায় এক শোকাতুর পিতার আকুতি

মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবার ভয়াল থাবা: ছেলের অকাল মৃত্যুতে জনসচেতনতায় এক শোকাতুর পিতার আকুতি

সম্প্রতি এক মর্মান্তিক ঘটনায় নেগলেরিয়া ফাউলেরি (Naegleria fowleri) নামক বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী অ্যামিবার আক্রমণে এক কিশোরের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। সন্তানের এই করুণ পরিণতির পর তার শোকসন্তপ্ত পিতা জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সোচ্চার হয়েছেন। এই অণুজীবটি মূলত উষ্ণ মিষ্টি পানির জলাশয় বা হ্রদে বসবাস করে এবং নাক দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করে সরাসরি মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস’ (PAM) বলা হয়, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়। ১৯৬০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী এমন কয়েকশ ঘটনার কথা নথিভুক্ত হয়েছে। যদিও এই সংক্রমণের হার অত্যন্ত কম, তবুও যথাযথ রোগ নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নেগলেরিয়া ফাউলেরি দূষিত পানি ব্যবহারের সময় মানুষের নাকের মাধ্যমে শরীরের ভেতরে ঢোকে এবং অলফ্যাক্টরি নার্ভের সাহায্যে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে এর লক্ষণগুলো মেনিনজাইটিসের সাথে অনেকটা মিলে যায়, যেমন—তীব্র মাথাব্যথা, জ্বর, বমি এবং ঘাড় শক্ত হয়ে আসা। এই বিভ্রান্তির কারণে অনেক সময় সঠিক রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব ঘটে, যা রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জলাশয়ের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অ্যামিবার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন।

নিহত কিশোরের পিতা তার অভিজ্ঞতা থেকে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা উষ্ণ বা স্থির মিষ্টি পানিতে নামার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেন। বিশেষ করে নাকের ভেতর পানি যাওয়া রোধ করার জন্য সাঁতারের সময় নাক বন্ধ রাখার সরঞ্জাম বা নোজ ক্লিপ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যেহেতু এই রোগের কোনো কার্যকর ও সহজলভ্য প্রতিষেধক এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, তাই প্রতিরোধের ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও বিভিন্ন জলাশয়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের যুগেও এই অণুজীবটি এখনো এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে, যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জ্ঞান এবং সচেতনতাই এখন প্রধান হাতিয়ার।