ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর বাড়ছে চাপ: পরবর্তী নেতৃত্বে কে আসতে পারেন?

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:03:23 pm, Monday, 3 August 2026
  • 1 Time View

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ বা নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্ব ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তাঁর কার্যপ্রণালী, সংস্থার অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা মহলে সমালোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফিফা প্রধানের ওপর এই চাপ আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ এবং এর প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। যদি শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনো তার পদ ছাড়তে বাধ্য হন কিংবা নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ মসনদে কে আসীন হতে পারেন—তা নিয়ে এখন থেকেই ক্রীড়া বিশ্লেষক ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

ফিফার মতো একটি বৈশ্বিক সংগঠনের সভাপতির পদটি কেবল ক্রীড়া প্রশাসনের নয়, বরং ভূ-রাজনীতি এবং বিপুল অর্থনৈতিক লেনদেনের সাথেও গভীরভাবে যুক্ত। ২০১৬ সালে সেপ ব্লটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্ব ফুটবলের পরিধি বাড়ানো, বিশেষ করে ক্লাব বিশ্বকাপ ও পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপের দলসংখ্যা বৃদ্ধির মতো যুগান্তকারী কিন্তু বিতর্কিত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। তবে তার শাসনামলে স্বচ্ছতার অভাব, মানবাধিকার ইস্যু এবং ইউরোপীয় ও লাতিন আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল শক্তিগুলোর সাথে ফিফার নীতিগত দূরত্ব বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য কমানোর দাবি জোরালো হয়েছে।

যদি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে ফিফার পরবর্তী সভাপতি পদে আসার মতো বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম এরই মধ্যে ফুটবল করিডোরে আলোচিত হচ্ছে। ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর (উয়েফা) পক্ষ থেকে কেউ এই দৌড়ে এগিয়ে আসতে পারেন, কিংবা আফ্রিকান ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের পক্ষ থেকেও শক্তিশালী প্রার্থীর দাবি উঠতে পারে। অতীতে ফিফা নির্বাচনে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং ফুটবলের উন্নয়নমূলক এজেন্ডাগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এমন কিছু মুখ রয়েছেন যারা বিভিন্ন মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থায় সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কূটনীতিতে যাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফিফার পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন কেবল একজন ব্যক্তি বদলের বিষয় নয়; এটি বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। বাণিজ্যিকীকরণ এবং বড় টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়ানোর বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকবে নাকি তৃণমূল স্তরের ফুটবল উন্নয়ন ও শাসনতান্ত্রিক সংস্কারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে—তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে নতুন নেতার ওপর। জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বর্তমান মেয়াদ এবং ফিফা কংগ্রেসের পরবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

দেশ ছাড়লেন রাশিয়ার যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিক বরিস নাদেজদিন, আশ্রয় নিলেন ফ্রান্সে

ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর বাড়ছে চাপ: পরবর্তী নেতৃত্বে কে আসতে পারেন?

Update Time : 10:03:23 pm, Monday, 3 August 2026

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ বা নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্ব ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে তাঁর কার্যপ্রণালী, সংস্থার অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা মহলে সমালোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফিফা প্রধানের ওপর এই চাপ আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ এবং এর প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। যদি শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনো তার পদ ছাড়তে বাধ্য হন কিংবা নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, তবে বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ মসনদে কে আসীন হতে পারেন—তা নিয়ে এখন থেকেই ক্রীড়া বিশ্লেষক ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

ফিফার মতো একটি বৈশ্বিক সংগঠনের সভাপতির পদটি কেবল ক্রীড়া প্রশাসনের নয়, বরং ভূ-রাজনীতি এবং বিপুল অর্থনৈতিক লেনদেনের সাথেও গভীরভাবে যুক্ত। ২০১৬ সালে সেপ ব্লটারের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্ব ফুটবলের পরিধি বাড়ানো, বিশেষ করে ক্লাব বিশ্বকাপ ও পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপের দলসংখ্যা বৃদ্ধির মতো যুগান্তকারী কিন্তু বিতর্কিত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। তবে তার শাসনামলে স্বচ্ছতার অভাব, মানবাধিকার ইস্যু এবং ইউরোপীয় ও লাতিন আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল শক্তিগুলোর সাথে ফিফার নীতিগত দূরত্ব বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য কমানোর দাবি জোরালো হয়েছে।

যদি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ চূড়ান্ত রূপ নেয়, তবে ফিফার পরবর্তী সভাপতি পদে আসার মতো বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম এরই মধ্যে ফুটবল করিডোরে আলোচিত হচ্ছে। ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর (উয়েফা) পক্ষ থেকে কেউ এই দৌড়ে এগিয়ে আসতে পারেন, কিংবা আফ্রিকান ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের পক্ষ থেকেও শক্তিশালী প্রার্থীর দাবি উঠতে পারে। অতীতে ফিফা নির্বাচনে ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং ফুটবলের উন্নয়নমূলক এজেন্ডাগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এমন কিছু মুখ রয়েছেন যারা বিভিন্ন মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থায় সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কূটনীতিতে যাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফিফার পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন কেবল একজন ব্যক্তি বদলের বিষয় নয়; এটি বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। বাণিজ্যিকীকরণ এবং বড় টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়ানোর বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকবে নাকি তৃণমূল স্তরের ফুটবল উন্নয়ন ও শাসনতান্ত্রিক সংস্কারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে—তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে নতুন নেতার ওপর। জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বর্তমান মেয়াদ এবং ফিফা কংগ্রেসের পরবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।