Dhaka ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত, ভূতুড়ে বিল নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ: জামায়াত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ Time View

দেশে বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার অভিযোগ, এসব সংকট নিরসনে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং তারা সংবিধান ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও নিয়মিতভাবে অস্বাভাবিক বিলের শিকার হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত ও পুনর্যাচাইয়ের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যত কোনো দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, যার ফলে তদারকির অভাবে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। তার মতে, বর্তমানে সরকারের প্রধান মনোযোগ সংবিধান সংশোধন, ‘জুলাই সনদ’ এবং বিরোধী দল দমনে নতুন আখ্যান তৈরিতে নিবদ্ধ। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, এবং সামগ্রিকভাবে জনদুর্ভোগের দিকে তাদের কোনো নজর নেই।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল দেশের গ্যাস সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২১৫ কোটি ঘনফুটেরও কম। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে, যা আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এই আমদানিনির্ভরতার কারণে গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। নতুন তেল ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে দীর্ঘ দিন ধরে কোনো বিনিয়োগ বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না, যা পূর্ববর্তী এবং বর্তমান উভয় সরকারের আমলেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রান্নার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয় বহুগুণে বেড়েছে। গ্যাসের এই সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলশ্রুতিতে দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি বন্ধ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করার উপর জোর দেন তিনি। সংকট সমাধানে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ এবং তাদের কাজে লাগানোর গুরুত্বও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান নতুন সরকারের পাঁচ মাসে মানুষের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও জনদুর্ভোগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর কর্মসূচিতে গেলে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা জনসাধারণের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন এবং ‘ভুয়া’ ডাক শুনছেন। ‘জুলাই সনদ’ কেন বাস্তবায়িত হচ্ছে না, এই ধরনের প্রশ্নের মুখেও তাদের পড়তে হচ্ছে।

বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, তাদের কাছে শত শত ভূতুড়ে বিলের অনুলিপি রয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, পূর্বে সংসদে প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী বিদ্যুতের সার্ভিস চার্জ না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন, কিন্তু এখনো এই চার্জ কাটা হচ্ছে। এমনকি প্রিপেইড মিটারেও ডিমান্ড চার্জ আদায় করা হচ্ছে, যা তিনি ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। নাজিবুর রহমান মোমেন আরও জানান, অর্থবছরের শেষ মাস জুন মাসে সিস্টেম লস কম দেখানোর জন্য অনুমানের ভিত্তিতে কম বিল করা হয়, তবে জুলাই মাসে যখন মিটার দেখে বিল করা হয়, তখন তা অনেক বেশি আসে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতি বছর কেন সরকারকে ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে এবং এ বিষয়টি জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি কি নিছকই একটি কারিগরি সমস্যা, নাকি পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র, তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

মহানগরের না বলা জীবনকাহিনি নিয়ে মোশাহিদা সুলতানা ঋতুর ‘বড়ো শহরের ছোট গল্প’

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত, ভূতুড়ে বিল নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ: জামায়াত

Update Time : ০১:২৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশে বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার অভিযোগ, এসব সংকট নিরসনে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং তারা সংবিধান ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও নিয়মিতভাবে অস্বাভাবিক বিলের শিকার হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত ও পুনর্যাচাইয়ের আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যত কোনো দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, যার ফলে তদারকির অভাবে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। তার মতে, বর্তমানে সরকারের প্রধান মনোযোগ সংবিধান সংশোধন, ‘জুলাই সনদ’ এবং বিরোধী দল দমনে নতুন আখ্যান তৈরিতে নিবদ্ধ। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, এবং সামগ্রিকভাবে জনদুর্ভোগের দিকে তাদের কোনো নজর নেই।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল দেশের গ্যাস সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২১৫ কোটি ঘনফুটেরও কম। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে, যা আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এই আমদানিনির্ভরতার কারণে গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। নতুন তেল ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে দীর্ঘ দিন ধরে কোনো বিনিয়োগ বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না, যা পূর্ববর্তী এবং বর্তমান উভয় সরকারের আমলেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রান্নার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয় বহুগুণে বেড়েছে। গ্যাসের এই সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলশ্রুতিতে দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি বন্ধ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করার উপর জোর দেন তিনি। সংকট সমাধানে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণ এবং তাদের কাজে লাগানোর গুরুত্বও তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান নতুন সরকারের পাঁচ মাসে মানুষের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও জনদুর্ভোগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর কর্মসূচিতে গেলে সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা জনসাধারণের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন এবং ‘ভুয়া’ ডাক শুনছেন। ‘জুলাই সনদ’ কেন বাস্তবায়িত হচ্ছে না, এই ধরনের প্রশ্নের মুখেও তাদের পড়তে হচ্ছে।

বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, তাদের কাছে শত শত ভূতুড়ে বিলের অনুলিপি রয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, পূর্বে সংসদে প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী বিদ্যুতের সার্ভিস চার্জ না নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন, কিন্তু এখনো এই চার্জ কাটা হচ্ছে। এমনকি প্রিপেইড মিটারেও ডিমান্ড চার্জ আদায় করা হচ্ছে, যা তিনি ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। নাজিবুর রহমান মোমেন আরও জানান, অর্থবছরের শেষ মাস জুন মাসে সিস্টেম লস কম দেখানোর জন্য অনুমানের ভিত্তিতে কম বিল করা হয়, তবে জুলাই মাসে যখন মিটার দেখে বিল করা হয়, তখন তা অনেক বেশি আসে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতি বছর কেন সরকারকে ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে এবং এ বিষয়টি জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি কি নিছকই একটি কারিগরি সমস্যা, নাকি পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র, তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।