Dhaka ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহানগরের না বলা জীবনকাহিনি নিয়ে মোশাহিদা সুলতানা ঋতুর ‘বড়ো শহরের ছোট গল্প’

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

মহানগরের ইট পাথরের খাঁচায় লুকিয়ে থাকা প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, না বলা বেদনা এবং তাদের দৈনন্দিন অস্তিত্বের লড়াই নিয়ে কথাসাহিত্যিক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু প্রকাশ করেছেন তাঁর নতুন গল্পের বই ‘বড়ো শহরের ছোট গল্প’। ১৫টি আকর্ষণীয় ছোট গল্পের এই সংকলনটি আধুনিক শহুরে জীবনের বিভিন্ন স্তরের মানুষের না বলা কথা তুলে ধরেছে। সাধারণ পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বইটির সাহিত্যমূল্য ও সামাজিক তাৎপর্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বইটির পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি বড় শহর কেবল কংক্রিটের ইমারত নয়, এটি অসংখ্য মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামের জীবন্ত দলিল। হঠাৎ চাকরি হারানো করপোরেট কর্মকর্তা, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়া শিক্ষক, উচ্চবংশীয় ব্যবসায়ী কন্যা, ভালোবাসা বঞ্চিত শ্রমিক থেকে শুরু করে গৃহকর্মী, ড্রাইভার, অভিবাসী শ্রমিক ও আশ্রয়হীন পাগল—সকলের জীবনই এই গল্পের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লেখক কোনো ধরনের জটিল সাহিত্যিক প্যাটার্ন বা পরাবাস্তবতার আশ্রয় না নিয়ে অত্যন্ত সাবলীল ও মেদহীন ভাষায় এই চরিত্রগুলোর বাস্তব রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।

সাহিত্যে সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতার যে প্রবল প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে এই বইটি সম্পূর্ণ দেশীয় বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব এবং তাদের লড়াইয়ের চিত্র যেভাবে এই গল্পগুলোতে উঠে এসেছে, তা যেকোনো সংবেদনশীল পাঠককে নাড়া দেবে। আধুনিক মানুষ যখন কৃত্রিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ভুয়া সমস্যার গোলকধাঁধায় আটকে গেছে, ঠিক সেই সময়ে এই বইটির চরিত্রগুলো আমাদের চারপাশের বাস্তব চিত্রকে নির্মম সত্যের মতো সামনে নিয়ে আসে।

সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকদের মতে, বইটির প্রতিটি গল্প এতই জীবন্ত যে মনে হয় চরিত্রগুলো পাঠকের চোখের সামনেই চলাফেরা করছে। তানিয়া তাবাসসুমের করা প্রচ্ছদটি বইটির নান্দনিক সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রান্তিক মানুষের না বলা গল্পগুলো আমাদের নিজস্ব ভাষায় ফুটিয়ে তোলার জন্য বইটি ইতিমধ্যে সাহিত্যবোদ্ধা ও সাধারণ পাঠকের প্রশংসা কুড়াতে শুরু করেছে। আধুনিক শহুরে সভ্যতার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে এবং নগরজীবনের চেনা চরিত্রগুলোর গভীরে প্রবেশ করতে এই সংকলনটি এক অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

বগুড়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ, এনসিপি নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

মহানগরের না বলা জীবনকাহিনি নিয়ে মোশাহিদা সুলতানা ঋতুর ‘বড়ো শহরের ছোট গল্প’

Update Time : ০২:০৬:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

মহানগরের ইট পাথরের খাঁচায় লুকিয়ে থাকা প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, না বলা বেদনা এবং তাদের দৈনন্দিন অস্তিত্বের লড়াই নিয়ে কথাসাহিত্যিক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু প্রকাশ করেছেন তাঁর নতুন গল্পের বই ‘বড়ো শহরের ছোট গল্প’। ১৫টি আকর্ষণীয় ছোট গল্পের এই সংকলনটি আধুনিক শহুরে জীবনের বিভিন্ন স্তরের মানুষের না বলা কথা তুলে ধরেছে। সাধারণ পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বইটির সাহিত্যমূল্য ও সামাজিক তাৎপর্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বইটির পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি বড় শহর কেবল কংক্রিটের ইমারত নয়, এটি অসংখ্য মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামের জীবন্ত দলিল। হঠাৎ চাকরি হারানো করপোরেট কর্মকর্তা, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়া শিক্ষক, উচ্চবংশীয় ব্যবসায়ী কন্যা, ভালোবাসা বঞ্চিত শ্রমিক থেকে শুরু করে গৃহকর্মী, ড্রাইভার, অভিবাসী শ্রমিক ও আশ্রয়হীন পাগল—সকলের জীবনই এই গল্পের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লেখক কোনো ধরনের জটিল সাহিত্যিক প্যাটার্ন বা পরাবাস্তবতার আশ্রয় না নিয়ে অত্যন্ত সাবলীল ও মেদহীন ভাষায় এই চরিত্রগুলোর বাস্তব রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।

সাহিত্যে সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদুবাস্তবতার যে প্রবল প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে এই বইটি সম্পূর্ণ দেশীয় বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাঠামোর মধ্যে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব এবং তাদের লড়াইয়ের চিত্র যেভাবে এই গল্পগুলোতে উঠে এসেছে, তা যেকোনো সংবেদনশীল পাঠককে নাড়া দেবে। আধুনিক মানুষ যখন কৃত্রিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ভুয়া সমস্যার গোলকধাঁধায় আটকে গেছে, ঠিক সেই সময়ে এই বইটির চরিত্রগুলো আমাদের চারপাশের বাস্তব চিত্রকে নির্মম সত্যের মতো সামনে নিয়ে আসে।

সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকদের মতে, বইটির প্রতিটি গল্প এতই জীবন্ত যে মনে হয় চরিত্রগুলো পাঠকের চোখের সামনেই চলাফেরা করছে। তানিয়া তাবাসসুমের করা প্রচ্ছদটি বইটির নান্দনিক সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। প্রান্তিক মানুষের না বলা গল্পগুলো আমাদের নিজস্ব ভাষায় ফুটিয়ে তোলার জন্য বইটি ইতিমধ্যে সাহিত্যবোদ্ধা ও সাধারণ পাঠকের প্রশংসা কুড়াতে শুরু করেছে। আধুনিক শহুরে সভ্যতার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে এবং নগরজীবনের চেনা চরিত্রগুলোর গভীরে প্রবেশ করতে এই সংকলনটি এক অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।