Dhaka ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় ফুটবল খেলার বিরোধ মেটাতে গিয়ে প্রাণ হারাল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় একটি অনভিপ্রেত ও মর্মান্তিক ঘটনায় ফুটবল খেলার মাঠের কথা কাটাকাটি থামাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে জামিল শেখ নামের এক কিশোর শিক্ষার্থী। সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই সহিংস মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। নিহত ষোলো বছর বয়সী জামিল শেখ স্থানীয় শেরুয়া দহপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের সন্তান এবং বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ছিল। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণে জানা যায়, সোমবার বিকেলে শেরুয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় কিশোর ও যুবকেরা নিয়মিত ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত চরম উত্তেজনা ও হাতাহাতির উপক্রমে রূপ নেয়। মাঠের পাশে বসে পুরো খেলা উপভোগ করছিল শিক্ষার্থী জামিল। খেলোয়াড়দের মধ্যকার এই অপ্রীতিকর ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি শান্ত করার মহৎ উদ্দেশ্যে সে এগিয়ে যায় এবং তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরিবর্তে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত শাকিল।

অভিযোগ উঠেছে, শেরুয়া দহপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে শাকিল (২২) কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ জামিলের ওপর চড়াও হন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শাকিলের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও সজোরে করা লাথির আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে জামিল। মুহূর্তের মধ্যে সে মারাত্মকভাবে জখম হয়ে অচেতন হয়ে যায়। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত লোকজন হতবিহ্বল হয়ে পড়েন এবং হামলাকারী শাকিল সুযোগ বুঝে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, নিহত জামিলের তলপেটসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার দিকেই পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের মাতম চলছে এবং তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সামান্য বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ঘটনাটি তদন্ত করছে। পলাতক অভিযুক্ত শাকিলকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের তুচ্ছ ঘটনায় একটি তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মাঠে বা জনসমাগমস্থলে এ ধরনের সহিংসতা রোধে অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

মহানগরের না বলা জীবনকাহিনি নিয়ে মোশাহিদা সুলতানা ঋতুর ‘বড়ো শহরের ছোট গল্প’

বগুড়ায় ফুটবল খেলার বিরোধ মেটাতে গিয়ে প্রাণ হারাল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী

Update Time : ০১:৩৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় একটি অনভিপ্রেত ও মর্মান্তিক ঘটনায় ফুটবল খেলার মাঠের কথা কাটাকাটি থামাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে জামিল শেখ নামের এক কিশোর শিক্ষার্থী। সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই সহিংস মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। নিহত ষোলো বছর বয়সী জামিল শেখ স্থানীয় শেরুয়া দহপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের সন্তান এবং বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ছিল। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণে জানা যায়, সোমবার বিকেলে শেরুয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় কিশোর ও যুবকেরা নিয়মিত ফুটবল খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত চরম উত্তেজনা ও হাতাহাতির উপক্রমে রূপ নেয়। মাঠের পাশে বসে পুরো খেলা উপভোগ করছিল শিক্ষার্থী জামিল। খেলোয়াড়দের মধ্যকার এই অপ্রীতিকর ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি শান্ত করার মহৎ উদ্দেশ্যে সে এগিয়ে যায় এবং তাদের বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরিবর্তে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্ত শাকিল।

অভিযোগ উঠেছে, শেরুয়া দহপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে শাকিল (২২) কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ জামিলের ওপর চড়াও হন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শাকিলের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও সজোরে করা লাথির আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে জামিল। মুহূর্তের মধ্যে সে মারাত্মকভাবে জখম হয়ে অচেতন হয়ে যায়। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত লোকজন হতবিহ্বল হয়ে পড়েন এবং হামলাকারী শাকিল সুযোগ বুঝে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, নিহত জামিলের তলপেটসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার দিকেই পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের মাতম চলছে এবং তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সামান্য বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ঘটনাটি তদন্ত করছে। পলাতক অভিযুক্ত শাকিলকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের তুচ্ছ ঘটনায় একটি তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মাঠে বা জনসমাগমস্থলে এ ধরনের সহিংসতা রোধে অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও কঠোর ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।