Dhaka ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই রাজনৈতিক পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র জাতীয় প্রেসক্লাব এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবারের একটি অনভিপ্রেত ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন ধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কর্মী-সমর্থকরা প্রকাশ্য মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং শহীদের অবমাননা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে গত শনিবার নতুন ধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস ওই চড় মারার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গত ১ আগস্ট দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও শান্তা ফারজানার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে এনডিবি দাবি করে আসছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব এলাকায় উভয় পক্ষ পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কর্মসূচি চলাকালে তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা চরম উত্তেজনা ও মারামারিতে লিপ্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পরিস্থিতি কতটা হিংসাত্মক রূপ নিয়েছিল। একটি ভিডিওতে শান্তা ফারজানা ও তাঁর সঙ্গীদের আ ন ম আয়াসের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়, যেখানে আয়াস মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর একটি লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। অপর একটি ভিডিওতে আয়াসকেও আত্মরক্ষার্থে বা পাল্টা আক্রমণ করতে দেখা গেছে। যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এই দৃশ্যগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রেসক্লাবের প্রাঙ্গণের পর এই সংঘর্ষের রেশ গড়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালেও। আহত অবস্থায় উভয় পক্ষের লোকজন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এ সময় ‘মঞ্চ-২৪’ নামের আরেকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা আয়াসের সমর্থক হিসেবে সেখানে উপস্থিত হন এবং শান্তা ফারজানা ও নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর ওপর চড়াও হন। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও চত্বরে উভয় পক্ষ দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং শান্তার পক্ষের লোকজনকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে শাহবাগ থানা থেকে পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা কিংবা হাসপাতালে তাঁদের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া এই সহিংসতার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে কি না, অথবা কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মতপার্থক্য মেটানোর পরিবর্তে এই ধরনের সহিংস পথ বেছে নেওয়া সুস্থ রাজনীতির পরিপন্থী এবং এর পেছনে আরও গভীর রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকতে পারে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে কবিতার মাধ্যমে সৃজনশীল আন্দোলনের ডাক কবিদের

জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই রাজনৈতিক পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

Update Time : ০২:৩৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র জাতীয় প্রেসক্লাব এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবারের একটি অনভিপ্রেত ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন ধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) এবং রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কর্মী-সমর্থকরা প্রকাশ্য মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং শহীদের অবমাননা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে গত শনিবার নতুন ধারা বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াস ওই চড় মারার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গত ১ আগস্ট দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও শান্তা ফারজানার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে এনডিবি দাবি করে আসছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব এলাকায় উভয় পক্ষ পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কর্মসূচি চলাকালে তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা চরম উত্তেজনা ও মারামারিতে লিপ্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পরিস্থিতি কতটা হিংসাত্মক রূপ নিয়েছিল। একটি ভিডিওতে শান্তা ফারজানা ও তাঁর সঙ্গীদের আ ন ম আয়াসের ওপর চড়াও হতে দেখা যায়, যেখানে আয়াস মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর একটি লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। অপর একটি ভিডিওতে আয়াসকেও আত্মরক্ষার্থে বা পাল্টা আক্রমণ করতে দেখা গেছে। যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এই দৃশ্যগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রেসক্লাবের প্রাঙ্গণের পর এই সংঘর্ষের রেশ গড়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালেও। আহত অবস্থায় উভয় পক্ষের লোকজন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এ সময় ‘মঞ্চ-২৪’ নামের আরেকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা আয়াসের সমর্থক হিসেবে সেখানে উপস্থিত হন এবং শান্তা ফারজানা ও নতুন ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর ওপর চড়াও হন। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও চত্বরে উভয় পক্ষ দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং শান্তার পক্ষের লোকজনকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে শাহবাগ থানা থেকে পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা কিংবা হাসপাতালে তাঁদের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া এই সহিংসতার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে কি না, অথবা কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মতপার্থক্য মেটানোর পরিবর্তে এই ধরনের সহিংস পথ বেছে নেওয়া সুস্থ রাজনীতির পরিপন্থী এবং এর পেছনে আরও গভীর রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকতে পারে।