লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম মিরন জমাদ্দার। তিনি রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট অভিযোগে তাঁকে এই অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে।
সোমবার রাতে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মিরন জমাদ্দারের বিরুদ্ধে দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন ফেসবুকে প্রায় ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। ওই ভিডিও ফুটেজে মিরন জমাদ্দারকে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করতে দেখা যায়, যা মুহূর্তেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নেতা মিরন জমাদ্দারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় কিংবা তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে তাঁর সরাসরি কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার দিন রাতেই ফেসবুকে তাঁর আরেকটি ভিডিও বার্তা প্রকাশিত হয়। ওই বার্তায় তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়, বরং ২০২২ সালের। সে সময় তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি ও নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মাদক সেবন করিয়েছিলেন এবং সেই মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে রেখেছিলেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি কুচক্রী মহল পুরোনো সেই ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম পিন্টুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বিষয়টি দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের নজরে আসে। দলীয় নীতি ও আদর্শের সাথে আপস না করার নীতিগত অবস্থানের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ওই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাশত করা হবে না, তা সে যত প্রভাবশালী নেতাই হোন না কেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের যেকোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দ্রুত লোকসমক্ষে চলে আসছে। এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যা তাদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে। রামগঞ্জের এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক দলগুলোর এমন কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানালেও, এর পেছনে অতীতের কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা অন্তর্কোন্দল রয়েছে কি না, তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
Reporter Name 


















