Dhaka ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে কবিতার মাধ্যমে সৃজনশীল আন্দোলনের ডাক কবিদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্নিহিত আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশের প্রথিতযশা কবি ও সাহিত্যিকেরা। রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সমাবেশ ও কবিতা পাঠের আসরে এই ঐতিহাসিক অঙ্গীকার করা হয়। জাতীয় কবিতা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবি, ছড়াকার ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন।

‘শহীদের রক্তে লেখা হয় মুক্তির কবিতা’ শীর্ষক এই আয়োজনের শুরুতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এর পরপরই জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী সংগ্রামী গান ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট কবি মোহন রায়হান স্মরণ করিয়ে দেন যে, আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের পটভূমিতে এই সংগঠনের জন্ম হয়েছিল। সে সময়ও কবি ও লেখকেরা শুধু সাহিত্যের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানেও পরিষদের সদস্যরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।

আলোচনা পর্বে আমন্ত্রিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তারা বর্তমান জাতীয় প্রেক্ষাপট নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আশার কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা নানা চক্রান্তের কারণে ম্লান হতে বসেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে মব জাস্টিস বা বিচারবহির্ভূত হিংসাত্মক ঘটনা এবং ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলার সংস্কৃতি জুলাই অভ্যুত্থানের মূল দর্শনকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে সকল ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

সাম্যবাদী আন্দোলনের অন্যতম নেতা বেলাল চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও সামগ্রিক ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো অর্জিত হয়নি। জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বার্থের পরিপন্থী বিভিন্ন চুক্তি কিংবা সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্তি জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। সমাজে নতুন করে বৈষম্য, দুর্নীতি ও উগ্রপন্থার উত্থান ঘটছে বলে অভিযোগ করে তিনি সবাইকে সজাগ থাকার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এ দেশের মানুষের মনে যে ভীতিহীন সাহস এবং জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টি করেছে, তা দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের মূল শক্তি। এই চেতনাকে ধারণ করেই একটি উদার, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি মুখরিত ছিল মনমুগ্ধকর পরিবেশনায়। হৃদিকা, ঈষান, আবির বাঙালি ও রাকিব ফরায়েজির কণ্ঠে পরিবেশিত দেশাত্মবোধক গান শ্রোতাদের মনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। এছাড়া প্রায় অর্ধশত কবির সাবলীল কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছায়। কবি নাহিদ হাসানের অনবদ্য সঞ্চালনায় এই বর্ণাঢ্য আয়োজন শেষ হয় আগামী দিনে আরও জোরালো সৃজনশীল আন্দোলন গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, জ্বালানি ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতার আগ্রহ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে কবিতার মাধ্যমে সৃজনশীল আন্দোলনের ডাক কবিদের

Update Time : ০৩:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্নিহিত আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশের প্রথিতযশা কবি ও সাহিত্যিকেরা। রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সমাবেশ ও কবিতা পাঠের আসরে এই ঐতিহাসিক অঙ্গীকার করা হয়। জাতীয় কবিতা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবি, ছড়াকার ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন।

‘শহীদের রক্তে লেখা হয় মুক্তির কবিতা’ শীর্ষক এই আয়োজনের শুরুতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এর পরপরই জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী সংগ্রামী গান ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে’। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ও বিশিষ্ট কবি মোহন রায়হান স্মরণ করিয়ে দেন যে, আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের পটভূমিতে এই সংগঠনের জন্ম হয়েছিল। সে সময়ও কবি ও লেখকেরা শুধু সাহিত্যের পাতায় সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানেও পরিষদের সদস্যরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।

আলোচনা পর্বে আমন্ত্রিত রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তারা বর্তমান জাতীয় প্রেক্ষাপট নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আশার কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান তাঁর বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা নানা চক্রান্তের কারণে ম্লান হতে বসেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে মব জাস্টিস বা বিচারবহির্ভূত হিংসাত্মক ঘটনা এবং ভিন্নমতের মানুষের ওপর হামলার সংস্কৃতি জুলাই অভ্যুত্থানের মূল দর্শনকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে সকল ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

সাম্যবাদী আন্দোলনের অন্যতম নেতা বেলাল চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও সামগ্রিক ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনো অর্জিত হয়নি। জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বার্থের পরিপন্থী বিভিন্ন চুক্তি কিংবা সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্তি জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। সমাজে নতুন করে বৈষম্য, দুর্নীতি ও উগ্রপন্থার উত্থান ঘটছে বলে অভিযোগ করে তিনি সবাইকে সজাগ থাকার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এ দেশের মানুষের মনে যে ভীতিহীন সাহস এবং জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টি করেছে, তা দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের মূল শক্তি। এই চেতনাকে ধারণ করেই একটি উদার, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি মুখরিত ছিল মনমুগ্ধকর পরিবেশনায়। হৃদিকা, ঈষান, আবির বাঙালি ও রাকিব ফরায়েজির কণ্ঠে পরিবেশিত দেশাত্মবোধক গান শ্রোতাদের মনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। এছাড়া প্রায় অর্ধশত কবির সাবলীল কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি এক অনন্য মাত্রায় পৌঁছায়। কবি নাহিদ হাসানের অনবদ্য সঞ্চালনায় এই বর্ণাঢ্য আয়োজন শেষ হয় আগামী দিনে আরও জোরালো সৃজনশীল আন্দোলন গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে।