মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকায় শুরু হয়েছে স্বস্তির বৃষ্টি। ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই আকাশ মেঘলা থাকায় নগরের বিভিন্ন প্রান্তে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের কর্মব্যস্ততার শুরুর দিকে এই বৃষ্টি কিছুটা ভোগান্তি তৈরি করলেও, দীর্ঘ দাবদাহের পর এই আবহাওয়া জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের দেওয়া তথ্যমতে, দিনের শুরুতেই বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে এলেও আকাশ পুরোপুরি মেঘমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দুপুর নাগাদ বৃষ্টির বিরতি থাকলেও দুপুরের পরবর্তী সময়ে আবার হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিকেলের পর বৃষ্টির প্রকোপ ক্রমে কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের তুলনায় আজ রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। এই অঞ্চলগুলোতে মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তার কারণে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, দেশের দক্ষিণ ও উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে গত কয়েকদিনে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি ছিল। গতকাল কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় সর্বোচ্চ ১১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়াও নোয়াখালী, নওগাঁর বদলগাছী, নীলফামারীর ডিমলা এবং ফেনীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই বর্ষণের এই প্রবণতা বজায় রয়েছে।
চলতি বছরের গত মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৫ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা মূলত সাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাব। অতিরিক্ত এই বৃষ্টিপাতের ফলে গত মাসের শুরুর দিকে দেশের অন্তত নয়টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যা জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ বয়ে আনে। বর্তমানে আগস্টের এই সময়েও আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে বর্ষণের এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসছে, যার ফলে হঠাৎ অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নগরবাসীকে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
Reporter Name 



















