প্রথম ম্যাচের চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের লজ্জা ভুলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ইমার্জিং ক্রিকেট দল। ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট সাউথ আফ্রিকাকে বৃষ্টি আইনে (ডিএলএস মেথড) ২৬ রানে হারিয়েছে টাইগার যুবারা। প্রিটোরিয়ার মাঠে আগের ম্যাচের দুর্বলতা কাটিয়ে ব্যাট ও বল—উভয় বিভাগেই পেশাদারিত্ব ও নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।
এর আগে প্রিটোরিয়ায় টস হেরে প্রথমে বোলিংয়ে নামে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। শুরুটা স্বাগতিকদের পক্ষে থাকলেও দারুণভাবে ম্যাচে ফেরেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট সাউথ আফ্রিকার দুই ওপেনার মিলে উদ্বোধনী জুটিতেই ১৪৮ রান সংগ্রহ করেন। ওপেনার লুডভিগ শুল্ড ৭১ বলে ৭২ এবং জেসন মিউরহেড ৭৩ বলে ৭৯ রান করেন। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তরুণ পেসার ইকবাল হোসেন। শুল্ডকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙার পর একে একে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ওপর চড়াও হন তিনি। নির্ধারিত ওভারের খেলা শেষের দিকে ১০ ওভার বোলিং করে মাত্র ৪৩ রান খরচায় ৫টি মূল্যবান উইকেট তুলে নেন ইকবাল। তার এই বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদে ৪৭ ওভারে ২৪৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকান দলটি।
২৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা চাপেক পড়ে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। ইনিংসের শুরুতেই অধিনায়ক ও ওপেনার জাকির হাসান (১২) এবং তিনে নামা শাহাদাত হোসেন (১৮) দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান। অপর ওপেনার মাহিফজুল ইসলাম ৩৯ বলে ৩৪ রান করে দলকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। যখন ১২.২ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেটে ৮০ রান, তখন দলের হাল ধরেন ইফতেখার হোসেন ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। এই দুই ব্যাটার অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ১০৬ রানের একটি চমৎকার জুটি গড়েন।
বৃষ্টির কারণে খেলা যখন বন্ধ হয়, তখন ৩৬ ওভারে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রান সংগ্রহ করে। অবিচ্ছিন্ন এই জুটিতে ভর করে ডিএলএস পদ্ধতিতে নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ২৬ রানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। পরবর্তীতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আর খেলা মাঠে গড়ানো সম্ভব না হলে, বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। দলের পক্ষে ইফতেখার হোসেন ৮৬ বলে সর্বোচ্চ ৭১ রানের নান্দনিক একটি ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৬৮ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ৩৮ রান করে দলকে নিরাপদ বন্দরে পৌঁছে দেন। এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের অবস্থান শক্ত করল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।
Reporter Name 



















