Dhaka ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়কর রিটার্ন দাখিল: আয়ের সাত খাত ও করের হিসাব নিকাশ সহজ করতে যা জানা জরুরি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

সঠিক সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক তথ্যের অভাবে করদাতারা জটিলতার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে আয়ের উৎসগুলোকে যথাযথ খাতে বিভাজন না করায় রিটার্ন দাখিলের সময় ভুল হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। বর্তমান কর আইন অনুযায়ী, একজন করদাতার আয়কে সাতটি নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি খাতের জন্য রয়েছে আলাদা নিয়মনীতি। এই খাতগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে করদাতারা কেবল নির্ভুলভাবে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন না, বরং অহেতুক জরিমানা ও আইনি ঝামেলা থেকেও রেহাই পাবেন।

২০২৩ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী, আয়ের সাতটি প্রধান খাতের মধ্যে প্রথমটি হলো ‘চাকরি থেকে আয়’। এর আওতায় সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের বেতন, বোনাস, ইনসেনটিভ ও যাবতীয় পারিশ্রমিক অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়ত, ‘ভাড়া থেকে আয়’, যেখানে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা বাণিজ্যিক দোকান ভাড়া থেকে অর্জিত আয় দেখাতে হয়। তৃতীয়ত, ‘কৃষি থেকে আয়’, যা বর্তমান বাণিজ্যিক কৃষি উদ্যোগ, পশুপালন বা খামার থেকে আসা আয়ের হিসাব নিশ্চিত করে। চতুর্থত, ‘ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়’—যেখানে চিকিৎসক, আইনজীবী বা পরামর্শকদের মতো পেশাজীবী এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আয়ের হিসাব নথিভুক্ত করা হয়।

পঞ্চমত, ‘মূলধনি আয়’ যা মূলত সম্পত্তি বা সম্পদের বিক্রয়লব্ধ মুনাফা ও রয়্যালটি থেকে আসে। ষষ্ঠত, ‘আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয়’, এর মধ্যে ব্যাংকের সুদ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, লভ্যাংশ বা সিকিউরিটিজ বন্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ অন্তর্ভুক্ত। সবশেষে, ‘অন্যান্য উৎসের আয়’, যেখানে ওপরের ছয়টি খাতের বাইরে থাকা যেকোনো বৈধ আয় দেখাতে হয়। মনে রাখা প্রয়োজন, প্রতিটি খাতের ওপর কর নির্ধারণের হার ভিন্ন হতে পারে, এমনকি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কর অব্যাহতির সুযোগও থাকে।

উল্লেখ্য যে, করমুক্ত আয়ের সীমার মধ্যে থাকলেও আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণ করা বর্তমানে আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ। এছাড়া, বার্ষিক চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়কে করমুক্ত রাখা হয়েছে, যা সাধারণ করদাতাদের জন্য একটি বড় স্বস্তি। তবে সঠিক খাত নির্ধারণে ভুল হলে রিটার্ন নিরীক্ষার সময় কর কর্মকর্তারা আপত্তি জানাতে পারেন, যা পরবর্তীতে জরিমানার কারণ হতে পারে। তাই করদাতাদের উচিত আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র গুছিয়ে রাখা এবং প্রয়োজনে পেশাদার পরামর্শ নিয়ে রিটার্ন দাখিল করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়। স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে রিটার্ন দাখিল করাই করদাতার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত পন্থা।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

রাশিয়ার সমুদ্রসৈকতে ড্রোন হামলা: শিশুসহ নিহত ৭, আহত ৪০

আয়কর রিটার্ন দাখিল: আয়ের সাত খাত ও করের হিসাব নিকাশ সহজ করতে যা জানা জরুরি

Update Time : ০৯:০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

সঠিক সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক তথ্যের অভাবে করদাতারা জটিলতার সম্মুখীন হন। বিশেষ করে আয়ের উৎসগুলোকে যথাযথ খাতে বিভাজন না করায় রিটার্ন দাখিলের সময় ভুল হওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। বর্তমান কর আইন অনুযায়ী, একজন করদাতার আয়কে সাতটি নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি খাতের জন্য রয়েছে আলাদা নিয়মনীতি। এই খাতগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে করদাতারা কেবল নির্ভুলভাবে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন না, বরং অহেতুক জরিমানা ও আইনি ঝামেলা থেকেও রেহাই পাবেন।

২০২৩ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী, আয়ের সাতটি প্রধান খাতের মধ্যে প্রথমটি হলো ‘চাকরি থেকে আয়’। এর আওতায় সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের বেতন, বোনাস, ইনসেনটিভ ও যাবতীয় পারিশ্রমিক অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়ত, ‘ভাড়া থেকে আয়’, যেখানে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা বাণিজ্যিক দোকান ভাড়া থেকে অর্জিত আয় দেখাতে হয়। তৃতীয়ত, ‘কৃষি থেকে আয়’, যা বর্তমান বাণিজ্যিক কৃষি উদ্যোগ, পশুপালন বা খামার থেকে আসা আয়ের হিসাব নিশ্চিত করে। চতুর্থত, ‘ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়’—যেখানে চিকিৎসক, আইনজীবী বা পরামর্শকদের মতো পেশাজীবী এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আয়ের হিসাব নথিভুক্ত করা হয়।

পঞ্চমত, ‘মূলধনি আয়’ যা মূলত সম্পত্তি বা সম্পদের বিক্রয়লব্ধ মুনাফা ও রয়্যালটি থেকে আসে। ষষ্ঠত, ‘আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয়’, এর মধ্যে ব্যাংকের সুদ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, লভ্যাংশ বা সিকিউরিটিজ বন্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ অন্তর্ভুক্ত। সবশেষে, ‘অন্যান্য উৎসের আয়’, যেখানে ওপরের ছয়টি খাতের বাইরে থাকা যেকোনো বৈধ আয় দেখাতে হয়। মনে রাখা প্রয়োজন, প্রতিটি খাতের ওপর কর নির্ধারণের হার ভিন্ন হতে পারে, এমনকি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কর অব্যাহতির সুযোগও থাকে।

উল্লেখ্য যে, করমুক্ত আয়ের সীমার মধ্যে থাকলেও আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণ করা বর্তমানে আইনি বাধ্যবাধকতার অংশ। এছাড়া, বার্ষিক চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়কে করমুক্ত রাখা হয়েছে, যা সাধারণ করদাতাদের জন্য একটি বড় স্বস্তি। তবে সঠিক খাত নির্ধারণে ভুল হলে রিটার্ন নিরীক্ষার সময় কর কর্মকর্তারা আপত্তি জানাতে পারেন, যা পরবর্তীতে জরিমানার কারণ হতে পারে। তাই করদাতাদের উচিত আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র গুছিয়ে রাখা এবং প্রয়োজনে পেশাদার পরামর্শ নিয়ে রিটার্ন দাখিল করা, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়। স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে রিটার্ন দাখিল করাই করদাতার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত পন্থা।