Dhaka ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় অংশীদারত্ব বাড়াতে ঢাকা-ওয়াশিংটন আলোচনা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ Time View

বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় যৌথ উদ্যোগের নতুন ক্ষেত্রগুলো অনুসন্ধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের আলোচনায় মানবিক সহায়তা প্রদান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা ও অবদানের বিষয়টি বিশেষভাবে স্থান পায়। আলাপচারিতার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিচালিত ঐতিহাসিক ‘অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল’-এর মানবিক ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ যেভাবে নিয়মিতভাবে নিজেদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, তার প্রশংসা করেন মার্কিন নৌবহরের কমান্ডার।

আগামী নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত ‘কারাট’ (কো–অপারেশন রেডিনেস অ্যাফ্লোট অ্যান্ড ট্রেনিং) মহড়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের উদ্যোগে প্রতিবছর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণে এই দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় নৌ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যা আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়া ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বৈঠকে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘সি ভিশন এক্সারসাইজ’-এ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সফল অংশগ্রহণের বিষয়টিও আলোচিত হয়। মার্কিন কমান্ডার আগামী দিনে নিয়মিতভাবে আয়োজিত ‘রিম অব দ্য পিস’ (রিমপ্যাক) মহড়া এবং বিশেষায়িত সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘জিসোমিয়া’ (GSOMIA)-র অগ্রগতি এবং এর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বকে ঢাকা অত্যন্ত উচ্চমর্যাদার দৃষ্টিতে দেখে। দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে যুগোপযোগী এবং বিস্তৃত সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। জবাবে মার্কিন কমান্ডার স্টিভ কেলার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে কাজ করার মতো বিশাল সুযোগ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই অংশীদারত্ব আরও বেশি গতিশীল হবে।

বিশ্বশান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন মার্কিন নৌবহর কমান্ডার। আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিিনামীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং মানবিক ভূমিকার তিনি উচ্চ প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সময় পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বমঞ্চে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় যেকোনো গঠনমূলক উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের নানা দিক মূল্যায়িত হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর কমান্ডারের এই সফর এবং শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার ভিতকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই রাজনৈতিক পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় অংশীদারত্ব বাড়াতে ঢাকা-ওয়াশিংটন আলোচনা

Update Time : ১২:৪৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় যৌথ উদ্যোগের নতুন ক্ষেত্রগুলো অনুসন্ধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের আলোচনায় মানবিক সহায়তা প্রদান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা ও অবদানের বিষয়টি বিশেষভাবে স্থান পায়। আলাপচারিতার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিচালিত ঐতিহাসিক ‘অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল’-এর মানবিক ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ যেভাবে নিয়মিতভাবে নিজেদের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, তার প্রশংসা করেন মার্কিন নৌবহরের কমান্ডার।

আগামী নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বহুল প্রতীক্ষিত ‘কারাট’ (কো–অপারেশন রেডিনেস অ্যাফ্লোট অ্যান্ড ট্রেনিং) মহড়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের উদ্যোগে প্রতিবছর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণে এই দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় নৌ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যা আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়া ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বৈঠকে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘সি ভিশন এক্সারসাইজ’-এ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সফল অংশগ্রহণের বিষয়টিও আলোচিত হয়। মার্কিন কমান্ডার আগামী দিনে নিয়মিতভাবে আয়োজিত ‘রিম অব দ্য পিস’ (রিমপ্যাক) মহড়া এবং বিশেষায়িত সামরিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘জিসোমিয়া’ (GSOMIA)-র অগ্রগতি এবং এর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বকে ঢাকা অত্যন্ত উচ্চমর্যাদার দৃষ্টিতে দেখে। দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে যুগোপযোগী এবং বিস্তৃত সহযোগিতার ক্ষেত্র উন্মোচনের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। জবাবে মার্কিন কমান্ডার স্টিভ কেলার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে কাজ করার মতো বিশাল সুযোগ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই অংশীদারত্ব আরও বেশি গতিশীল হবে।

বিশ্বশান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন মার্কিন নৌবহর কমান্ডার। আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিিনামীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং মানবিক ভূমিকার তিনি উচ্চ প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সময় পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বমঞ্চে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় যেকোনো গঠনমূলক উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কের নানা দিক মূল্যায়িত হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর কমান্ডারের এই সফর এবং শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার ভিতকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।