মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ও সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে নকল আইসক্রিম উৎপাদন এবং অস্বাস্থ্যকর ও বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলার চর সাটুরিয়া এলাকায় এবং বিকেলে সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাটুরিয়া উপজেলা সদরের চর সাটুরিয়া এলাকার একটি অবৈধ কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় সুপরিচিত ব্র্যান্ড ‘মিল্ক ভিটা’র লোগো ও নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘মিল্ক মিটা’ মনোগ্রামে আইসক্রিম তৈরি করে আসছিলেন। অভিযানে দেখা যায়, কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা বিএসটিআইয়ের (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) মানচিহ্ন ছাড়াই ওই আইসক্রিম উৎপাদন করা হচ্ছিল। পাশাপাশি, পণ্যের মোড়কে কোনো খাদ্য উপাদানের বিবরণ বা উৎপাদনের মেয়াদ উল্লেখ না করে অত্যন্ত ক্ষতিকর রং, স্যাকারিন ও বিভিন্ন কেমিক্যাল ফ্লেভার ব্যবহার করে এসব আইসক্রিম প্রস্তুত করা হতো। উৎপending এসব অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম মূলত জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মুদি দোকান ও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হতো, যা কোমলমতি শিশু ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় কারখানার মালিক সিরাজুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় ‘লন্ডন ক্যাফে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট’-এ আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ওই রেস্তোরাঁয় গিয়ে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণের ভয়াবহ চিত্র দেখতে পান পরিদর্শক দল। অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রাহকদের কাছে বাসি ও পচা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছিল। এমনকি মেয়াদোত্তীর্ণ ও ছত্রাকপড়া রুটি ব্যবহার করে ফাস্টফুড আইটেম যেমন বার্গার তৈরি করা হচ্ছিল। খাবারে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ কেওড়া জল ব্যবহারেরও সত্যতা মেলে। এসব অপরাধের দায়ে রেস্তোরাঁটির ব্যবস্থাপক কুদ্দুস মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানগুলো পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল। এ সময় তার সঙ্গে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোসা. রৌশন আরা বেগম এবং জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি চৌকস দল উপস্থিত থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও সহযোগিতা প্রদান করেন।
অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল গণমাধ্যমকে জানান, জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা সহ্য করা হবে না। নামী ব্র্যান্ডের নকল করা, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই মানহীন পণ্য উৎপাদন এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির মাধ্যমে জনজীবন বিপন্নকারীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে এ ধরনের বেআইনি কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্যে ভেজাল রোধে ভোক্তা অধিকারের এমন জনকল্যাণমূলক অভিযান জেলাজুড়ে আরও জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।
Reporter Name 





















