Dhaka ০৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যার বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত সব হত্যার বিচার অত্যন্ত স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নির্মিত ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সদ্য উদ্বোধন করা জাদুঘরটির বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন। এ সময় জুলাই অভ্যুত্থানের সেই দিনগুলোর উত্তাল মুহূর্ত, ছাত্র-জনতার অদম্য প্রতিরোধ এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির নির্মম নির্যাতনের চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছিল। জাদুঘর পরিদর্শনের সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘর কেবল কিছু স্মারক বা ছবি সংরক্ষণের জায়গা নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ের এক অনন্য দলিল হিসেবে কাজ করবে। ফ্যাসিবাদী জমানায় যারা রাজপথে বুক পেতে দিয়ে নিজেদের অমূল্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, জাতি চিরকাল তাদের এই মহান আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দেশের আপামর জনসাধারণ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তা আধুনিক ইতিহাসের এক বিরল অধ্যায়। এই গণঅভ্যুত্থান দমনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন যন্ত্রকে ব্যবহার করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে এবং নির্বিচারে বহু তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং কোনো বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ দেশে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। বিচার প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য সরকার সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা, জুলাই আন্দোলনে শহিদ হওয়া পরিবারের সদস্য এবং আহত বীর যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। শহিদ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে এবং পুনর্বাসনসহ সব ধরনের আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রদানে রাষ্ট্র সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের মাধ্যমেই কেবল শহিদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

১৯৩৬-এর ফ্রান্স ও এক রহস্যময় হত্যাকাণ্ড: নেটফ্লিক্সের ‘সামার ৩৬’ সিরিজে ইতিহাসের নতুন বয়ান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যার বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০২:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত সব হত্যার বিচার অত্যন্ত স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নির্মিত ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সদ্য উদ্বোধন করা জাদুঘরটির বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন। এ সময় জুলাই অভ্যুত্থানের সেই দিনগুলোর উত্তাল মুহূর্ত, ছাত্র-জনতার অদম্য প্রতিরোধ এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির নির্মম নির্যাতনের চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছিল। জাদুঘর পরিদর্শনের সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘর কেবল কিছু স্মারক বা ছবি সংরক্ষণের জায়গা নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ের এক অনন্য দলিল হিসেবে কাজ করবে। ফ্যাসিবাদী জমানায় যারা রাজপথে বুক পেতে দিয়ে নিজেদের অমূল্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, জাতি চিরকাল তাদের এই মহান আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দেশের আপামর জনসাধারণ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তা আধুনিক ইতিহাসের এক বিরল অধ্যায়। এই গণঅভ্যুত্থান দমনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন যন্ত্রকে ব্যবহার করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে এবং নির্বিচারে বহু তাজা প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং কোনো বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ দেশে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। বিচার প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সেজন্য সরকার সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা, জুলাই আন্দোলনে শহিদ হওয়া পরিবারের সদস্য এবং আহত বীর যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। শহিদ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে এবং পুনর্বাসনসহ সব ধরনের আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রদানে রাষ্ট্র সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের মাধ্যমেই কেবল শহিদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।