২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্তে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত তরুণ মো. হৃদয়ের মরদেহ আজও খুঁজে পায়নি তাঁর পরিবার। দীর্ঘ দুই বছর ধরে নিখোঁজ এই তরুণের হাড়গোড়টুকু খুঁজে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে আসছে পরিবারটি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (আইটিজেপি) ফরেনসিক বিশ্লেষণে উঠে আসা একটি প্রামাণ্যচিত্রে হৃদয়ের ওপর পুলিশের নৃশংস নির্যাতনের সেই মর্মান্তিক দৃশ্য প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কোনাবাড়ির শরীফ জেনারেল হাসপাতালের সামনে দাঙ্গা পুলিশের পোশাক পরিহিত একদল সদস্য ২১ বছর বয়সী হৃদয়কে আটক করেন। পরে শটগানধারী এক পুলিশ সদস্য তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করেন। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ার পর পুলিশ সদস্যরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে কোনাবাড়ি থানার পেছনের একটি গলির দিকে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন টাঙ্গাইলের হেমনগর ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ও অটোরিকচালক হৃদয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে হৃদয়ের ভগ্নিপতি মো. ইব্রাহিম কোনাবাড়ি থানা, স্থানীয় হাসপাতাল এবং মর্গে হন্যে হয়ে খোঁজ নেন। পরবর্তীতে কোনাবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযোগ দাখিল করা হয়। কনস্টেবল মো. আকরাম হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে গাজীপুর নগরের কড্ডা এলাকায় তুরাগ নদে ডুবুরি দল দিয়ে তল্লাশি চালানো হলেও হৃদয়ের কোনো সন্ধান মেলেনি। তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর জানান, হৃদয়ের মরদেহ কড্ডা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শহীদ বা নিখোঁজের সরকারি তালিকায় নাম ওঠেনি হৃদয়ের। এমনকি মেলেনি কোনো সরকারি সহায়তাও। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা লাল মিয়া ও মা রেহেনা বেগম এখনো শোকে কাতর। হৃদয়ের বোন জেসমিন আক্তার জানান, তাঁরা আইনি বিচার পাওয়ার পাশাপাশি অন্তত ভাইয়ের মরদেহের অবশিষ্টাংশ বা হাড়গোড়টুকু ফিরে পেতে চান, যাতে তাঁকে শেষবারের মতো একটি কবর দেওয়া সম্ভব হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার প্রক্রিয়ার অন্যতম একটি বেদনাদায়ক অধ হয়ে রয়ে গেছে।
Reporter Name 




















