Dhaka ০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডার হাসপাতালে জিবরীলের সঙ্গে ৬ দিন: এক মায়ের কঠিন সংগ্রামের গল্প

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

প্রবাসজীবনে প্রিয়জন হারানোর শোক এবং সন্তানের গুরুতর অসুস্থতার মুখোমুখি হওয়ার এক হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন কানাডার সাস্কাটুনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি তামান্না মহুয়া। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে পাঁচ সপ্তাহের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পরই তার কনিষ্ঠ পুত্র জিবরীলের তীব্র অ্যাজমা আক্রমণ শুরু হয়। এই আকস্মিক চিকিৎসাসংকট এবং কানাডার একটি হাসপাতালের ২৩২১ নম্বর কেবিনে কাটানো ছয় দিনের রোমাঞ্চকর ও উৎকণ্ঠাময় দিনগুলোর বিবরণ উঠে এসেছে এই বিশেষ প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে ফেরার পরপরই জিবরীলের শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্থানীয় হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও অক্সিজেন সাপোর্টের মাধ্যমে তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। শিশুটির অক্সিজেন লেভেল ক্রমাগত ওঠানামা করায় চিকিৎসকরা তাকে কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালের ৩ তলার ২৩২১ নম্বর কেবিনে স্থানান্তরিত করেন। কেবিনটির জানালা থেকে সাসকাচুয়ান নদীর শান্ত রূপ, প্রমোদতরি এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্য যেন দীর্ঘ ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তার মাঝে এক টুকরো স্বস্তি এনে দিয়েছিল।

হাসপাতালে অবস্থানের দিনগুলোতে মা তামান্না মহুয়াকে প্রতি মুহূর্তে লড়াই করতে হয়েছে সন্তানের পাশে থেকে। প্রতি ঘণ্টায় নেবুলাইজেশন, স্যালাইন, রক্ত পরীক্ষা এবং নিয়মিত ভাইটাল মনিটরিংয়ের মধ্য দিয়ে কেটেছে তাদের দিন ও রাত। এই কঠিন সময়ে জিবরীল তার মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিল সে মারা যাচ্ছে কি না—মায়ের অন্তরে যা গভীর দাগ কেটে যায়। তবে চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নার্সদের আন্তরিক সেবা এবং প্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের রান্না করা খাবার ও সহযোগিতায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিশেষ করে, শিশুদের আনন্দ দিতে স্পাইডার-ম্যানের হাসপাতালে আগমন ছোট্ট জিবরীলের মনে কিছুটা আনন্দের খোরাক জোগায়।

টানা ছয় দিন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিবিড় চিকিৎসার পর জিবরীলের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। চিকিৎসকরা সবশেষ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেন এবং বাসায় কিছুদিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন। প্রবাসের মাটিতে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে সন্তানকে সুস্থ করে তোলার এই যাত্রায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই প্রবাসী নারী। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এবং মানসিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল তামান্না মহুয়া ও তার কনিষ্ঠ পুত্র জিবরীলের এই হাসপাতাল জীবনের গল্প।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্রাজিলের প্রবীণ নেতা লুলা দা সিলভা

কানাডার হাসপাতালে জিবরীলের সঙ্গে ৬ দিন: এক মায়ের কঠিন সংগ্রামের গল্প

Update Time : ০৫:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

প্রবাসজীবনে প্রিয়জন হারানোর শোক এবং সন্তানের গুরুতর অসুস্থতার মুখোমুখি হওয়ার এক হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন কানাডার সাস্কাটুনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি তামান্না মহুয়া। সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে পাঁচ সপ্তাহের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পরই তার কনিষ্ঠ পুত্র জিবরীলের তীব্র অ্যাজমা আক্রমণ শুরু হয়। এই আকস্মিক চিকিৎসাসংকট এবং কানাডার একটি হাসপাতালের ২৩২১ নম্বর কেবিনে কাটানো ছয় দিনের রোমাঞ্চকর ও উৎকণ্ঠাময় দিনগুলোর বিবরণ উঠে এসেছে এই বিশেষ প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে ফেরার পরপরই জিবরীলের শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্থানীয় হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও অক্সিজেন সাপোর্টের মাধ্যমে তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। শিশুটির অক্সিজেন লেভেল ক্রমাগত ওঠানামা করায় চিকিৎসকরা তাকে কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালের ৩ তলার ২৩২১ নম্বর কেবিনে স্থানান্তরিত করেন। কেবিনটির জানালা থেকে সাসকাচুয়ান নদীর শান্ত রূপ, প্রমোদতরি এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্য যেন দীর্ঘ ক্লান্তি ও দুশ্চিন্তার মাঝে এক টুকরো স্বস্তি এনে দিয়েছিল।

হাসপাতালে অবস্থানের দিনগুলোতে মা তামান্না মহুয়াকে প্রতি মুহূর্তে লড়াই করতে হয়েছে সন্তানের পাশে থেকে। প্রতি ঘণ্টায় নেবুলাইজেশন, স্যালাইন, রক্ত পরীক্ষা এবং নিয়মিত ভাইটাল মনিটরিংয়ের মধ্য দিয়ে কেটেছে তাদের দিন ও রাত। এই কঠিন সময়ে জিবরীল তার মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিল সে মারা যাচ্ছে কি না—মায়ের অন্তরে যা গভীর দাগ কেটে যায়। তবে চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নার্সদের আন্তরিক সেবা এবং প্রবাসী শুভানুধ্যায়ীদের রান্না করা খাবার ও সহযোগিতায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিশেষ করে, শিশুদের আনন্দ দিতে স্পাইডার-ম্যানের হাসপাতালে আগমন ছোট্ট জিবরীলের মনে কিছুটা আনন্দের খোরাক জোগায়।

টানা ছয় দিন নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিবিড় চিকিৎসার পর জিবরীলের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটে। চিকিৎসকরা সবশেষ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেন এবং বাসায় কিছুদিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন। প্রবাসের মাটিতে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে সন্তানকে সুস্থ করে তোলার এই যাত্রায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই প্রবাসী নারী। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি এবং মানসিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল তামান্না মহুয়া ও তার কনিষ্ঠ পুত্র জিবরীলের এই হাসপাতাল জীবনের গল্প।