Dhaka ০৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: বিজ্ঞান বিষয়ের তৃতীয় অধ্যায়ের মূল ধারণা ও প্রস্তুতি কৌশল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ Time View

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-কে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ের প্রস্তুতিকে সহজ ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাধারণ বিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে উল্লেখিত উদ্ভিদের অতি প্রয়োজনীয় কিছু শারীরিক প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন। এসব প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ইমবাইবেশন, ব্যাপন, অভিস্রবণ এবং প্রস্বেদন। শিক্ষাবিদদের মতে, বিষয়গুলোর মৌলিক ধারণা পরিষ্কার থাকলে বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ সহজ হয়ে ওঠে।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানের আলোচনায় ইমবাইবেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই তরলগ্রাহী বা পানিগ্রাহী হয়ে থাকে। উদ্ভিদের দেহে বিদ্যমান স্টার্চ, সেলুলোজ ও জিলেটিনের মতো উপাদানগুলো এই ধর্মের অন্তর্ভুক্ত। এসব উপাদান তাদের প্রাকৃতিক কলয়েডধর্মী বৈশিষ্ট্যের কারণে চারপাশ থেকে পানি বা অন্য কোনো তরল পদার্থ শোষণ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শুকনা কাঠ হলো সেলুলোজ-জাতীয় কলয়েডধর্মী পদার্থ। এতে পানির ঘটতি থাকায় তা ইমবাইবেশন প্রক্রিয়ায় পানি দ্রুত শোষণ করে নেয়। অন্যদিকে পদার্থের চলাচলের ওপর ভিত্তি করে পর্দা বা ঝিল্লিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। পলিথিন এমন একটি পর্দা যার মধ্য দিয়ে দ্রাবক ও দ্রব কোনো অণুই চলাচল করতে পারে না, তাই একে অভেদ্য পর্দা বলা হয়। অপরদিকে মাছের পটকার পর্দা কেবল দ্রাবক অণুকে (যেমন পানি) পার হতে দেয় কিন্তু দ্রবকে আটকায়, ফলে এটি অর্ধভেদ্য পর্দা হিসেবে পরিচিত।

পদার্থের অণুর চলাচল ও ঘনত্বের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে ব্যাপন ও অভিস্রবণ প্রক্রিয়া সচল থাকে। বাতাসে ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়া ব্যাপন প্রক্রিয়ার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই নিয়মে তরল বা গ্যাসের ক্ষুদ্র অণুগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং এই প্রক্রিয়া অণুগুলোর ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে। অন্যদিকে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে দ্রাবক অণু অর্ধভেদ্য পর্দা ভেদ করে বেশি ঘনত্বের দ্রবণে প্রবেশ করে। যেমন, শুকনা কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে বাইরের পাতলা দ্রবণ থেকে পানি কিশমিশের ভেতরের ঘন কোষে প্রবেশ করে এবং কিশমিশটি ফুলে ওঠে।

উদ্ভিদের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া হলো প্রস্বেদন। উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাতার রন্ধ্র দিয়ে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায়। অতিরিক্ত প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদে পানির সংকট তৈরি হতে পারে, এমনকি উদ্ভিদের মৃত্যুও ঘটতে পারে। তবুও উদ্ভিদকে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে রক্ষা করতে এটি অপরিহার্য। এ কারণেই উদ্ভিদবিজ্ঞানে প্রস্বেদনকে ‘নেসেসারি ইভিল’ বা ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

রাজধানীর ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, বৃত্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞার পেছনের মূল কারণ ও ব্যবহারিক উদাহরণ ভালোভাবে বুঝতে হবে। স্পষ্ট ধারণা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করতে সক্ষম হবে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

এসএসসি প্রস্তুতি: খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: বিজ্ঞান বিষয়ের তৃতীয় অধ্যায়ের মূল ধারণা ও প্রস্তুতি কৌশল

Update Time : ০৩:১৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-কে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ের প্রস্তুতিকে সহজ ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ভিত্তিক নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাধারণ বিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে উল্লেখিত উদ্ভিদের অতি প্রয়োজনীয় কিছু শারীরিক প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন। এসব প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ইমবাইবেশন, ব্যাপন, অভিস্রবণ এবং প্রস্বেদন। শিক্ষাবিদদের মতে, বিষয়গুলোর মৌলিক ধারণা পরিষ্কার থাকলে বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত ও ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ সহজ হয়ে ওঠে।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানের আলোচনায় ইমবাইবেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ কলয়েডধর্মী পদার্থই তরলগ্রাহী বা পানিগ্রাহী হয়ে থাকে। উদ্ভিদের দেহে বিদ্যমান স্টার্চ, সেলুলোজ ও জিলেটিনের মতো উপাদানগুলো এই ধর্মের অন্তর্ভুক্ত। এসব উপাদান তাদের প্রাকৃতিক কলয়েডধর্মী বৈশিষ্ট্যের কারণে চারপাশ থেকে পানি বা অন্য কোনো তরল পদার্থ শোষণ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, শুকনা কাঠ হলো সেলুলোজ-জাতীয় কলয়েডধর্মী পদার্থ। এতে পানির ঘটতি থাকায় তা ইমবাইবেশন প্রক্রিয়ায় পানি দ্রুত শোষণ করে নেয়। অন্যদিকে পদার্থের চলাচলের ওপর ভিত্তি করে পর্দা বা ঝিল্লিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। পলিথিন এমন একটি পর্দা যার মধ্য দিয়ে দ্রাবক ও দ্রব কোনো অণুই চলাচল করতে পারে না, তাই একে অভেদ্য পর্দা বলা হয়। অপরদিকে মাছের পটকার পর্দা কেবল দ্রাবক অণুকে (যেমন পানি) পার হতে দেয় কিন্তু দ্রবকে আটকায়, ফলে এটি অর্ধভেদ্য পর্দা হিসেবে পরিচিত।

পদার্থের অণুর চলাচল ও ঘনত্বের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে ব্যাপন ও অভিস্রবণ প্রক্রিয়া সচল থাকে। বাতাসে ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়া ব্যাপন প্রক্রিয়ার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই নিয়মে তরল বা গ্যাসের ক্ষুদ্র অণুগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে কম ঘনত্বের স্থানের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং এই প্রক্রিয়া অণুগুলোর ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে। অন্যদিকে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে দ্রাবক অণু অর্ধভেদ্য পর্দা ভেদ করে বেশি ঘনত্বের দ্রবণে প্রবেশ করে। যেমন, শুকনা কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে বাইরের পাতলা দ্রবণ থেকে পানি কিশমিশের ভেতরের ঘন কোষে প্রবেশ করে এবং কিশমিশটি ফুলে ওঠে।

উদ্ভিদের বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া হলো প্রস্বেদন। উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাতার রন্ধ্র দিয়ে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায়। অতিরিক্ত প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদে পানির সংকট তৈরি হতে পারে, এমনকি উদ্ভিদের মৃত্যুও ঘটতে পারে। তবুও উদ্ভিদকে অতিরিক্ত পানির চাপ থেকে রক্ষা করতে এটি অপরিহার্য। এ কারণেই উদ্ভিদবিজ্ঞানে প্রস্বেদনকে ‘নেসেসারি ইভিল’ বা ‘প্রয়োজনীয় ক্ষতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

রাজধানীর ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, বৃত্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞার পেছনের মূল কারণ ও ব্যবহারিক উদাহরণ ভালোভাবে বুঝতে হবে। স্পষ্ট ধারণা ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করতে সক্ষম হবে।