কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় শুরু হয়েছে মর্যাদাপূর্ণ তৃতীয় আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াড (আইওএআই) ২০২৬। বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রায় চারশ মেধাবী শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের চার সদস্যের একটি তরুণ দল। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো অগ্রসরমাণ খাতে দেশের নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করার ক্ষেত্রে এই অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলite থাকা এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (আইআইটি) অধ্যাপক ড. বি এম মাইনুল হোসেন। আর প্রতিযোগী হিসেবে চারজন উজ্জ্বল শিক্ষার্থী দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তারা হলেন—কুমিল্লার হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাইদুজ্জামান আরাফ, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অনন্য যারিফ আকন্দ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, অলিম্পিয়াডের প্রথম দিনেই প্রতিযোগীদের মেশিন লার্নিং, কম্পিউটার ভিশন এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিংসহ বিভিন্ন জটিল প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে। বিশেষ করে, এবারের আসরে নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে ‘এআই মডেল ট্র্যাক’। এই ট্র্যাকে বিশ্বের নামকরা বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাব ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্ভাবিত মডেল ব্যবহার করে প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে, যা পুরো আসরকে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।
আগামী ১২ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ দলকে নির্বাচন করেছে বাংলাদেশ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াড (বিডিএআইও)। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ও পরবর্তী নিবিড় সিলেকশন ক্যাম্পের মাধ্যমে এই চার সদস্যকে চূড়ান্ত করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই মাসব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এই প্রতিযোগীদের, যাতে তারা আন্তর্জাতিক মানে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন।
দলনেতা অধ্যাপক ড. বি এম মাইনুল হোসেন বলেন, বিশ্বের একশটিরও বেশি দেশের সেরা খুদে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে একই মঞ্চে প্রতিযোগিতা করার এই সুযোগ আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা। এই ধরনের বৈশ্বিক আসর তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ গবেষণার পথকে আরও প্রশস্ত করবে এবং এবারের আসরে বাংলাদেশ দল অত্যন্ত ভালো ফলাফল করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই যাত্রায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে। এর প্লাটিনাম স্পন্সর ও জাতীয় পর্বের হোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজিনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) এবং পাওয়ার্ড বাই পার্টনার হিসেবে রয়েছে রিভ চ্যাট। এছাড়া ব্রেইন স্টেশন ২৩, মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ, ক্রিয়েটিভ আইটি, বিটনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম এই মহৎ উদ্যোগে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে।
Reporter Name 





















