পোশাকশিল্পে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের অভিনব ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দীন শায়ক। এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন প্রকাশিত এই তালিকায় বাংলাদেশের কোনো গবেষকের এমন স্বীকৃতি দেশের বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানচিন্তাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর এই গবেষণার নেপথ্য গল্প, চ্যালেঞ্জ এবং তরুণদের জন্য বিজ্ঞান সাধনার নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
ড. আব্বাস উদ্দীন তাঁর দীর্ঘ দুই দশকের অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, পোশাক কারখানায় অতিরিক্ত পানি, জ্বালানির অপচয় এবং রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। শুধু দূষণ রোধ করাই নয়, বরং উৎপাদনপ্রক্রিয়াকেই কীভাবে আরও দক্ষ ও কম কার্বননির্ভর করা যায়—সেটিই ছিল তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য অর্জন এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকার পূরণে এই প্রযুক্তি পোশাকশিল্পে বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে মনে করেন এই গবেষক।
তিনি বলেন, এই স্বীকৃতিতে তিনি যেমন আনন্দিত ও বিস্মিত হয়েছেন, তেমনি একে বড় একটি দায়িত্ববোধ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ শুধু কম খরচে পোশাক তৈরির জন্যই নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে তিনি এই গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল টুলস এবং ডেটানির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া যুক্ত করতে চান, যাতে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক টেক্সটাইল ডিকার্বনাইজেশন বা কার্বনমুক্তকরণ গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করা যায়।
তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. আব্বাস উদ্দীন বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে সঠিক মানসিকতা বা মাইন্ডসেট সবচেয়ে বেশি জরুরি। শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ল্যাবরেটরিতে বসে গবেষণা করলে বাস্তব সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না; বরং মাঠপর্যায়ে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করা এবং কারখানার বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করার মানসিকতা থাকতে হবে। পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেন, সবচেয়ে মূল্যবান বিজ্ঞান সেটাই, যা সরাসরি মানুষের কল্যাণে এবং সমাজের বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগে।
Reporter Name 























