রাজধানীর ঐতিহাসিক বকশীবাজার এলাকায় অবস্থিত সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার ছাত্রাবাসে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দিনভর দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি অন্য মোড় নেয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের একটি দল আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, হল দখলের সময় সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া পরিস্থিতির একপর্যায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হকের ওপরও চড়াও হয়ে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ছাত্রদল নেতা মো. ইব্রাহীমের নেতৃত্বে হলের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দিনভর চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের অন্তত ২৫ জন এবং ছাত্রদলের ৩০ জনের অধিক নেতাকর্মী এই সহিংসতায় আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষের তীব্রতার কারণে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বকশীবাজার ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা শান্ত হলেও এলাকায় থমথমে ভাব বজায় রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং ঘটনার কারণ উদঘাটনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের দাবি উঠেছে। শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের রাজনৈতিক সংঘাত এবং ছাত্রাবাস দখল নিয়ে সচেতন মহলে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
Reporter Name 

















