ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, বর্বরোচিত এই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ারও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর শিশুটির পরিবার মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার নির্ধারিত পথে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। অপরাধীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। চরম ভীতি ও আতঙ্কের কারণে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি তার পরিবার থেকে সম্পূর্ণ গোপন রাখে। কিন্তু পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার (গতকালের ঘটনা) হঠাৎ করেই ওই অপকর্মের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পরই কেবল বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারে হতভাগ্য পরিবারটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার তীব্র ক্ষোভ ও মানহানির শিকার হয়ে রাতেই শিশুটির ভাই বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী ও নির্যাতিতার ভাই গণমাধ্যমকে জানান, অপরাধীদের হুমকির কারণে তার বোন ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। পরে তারা ঘটনার সময় গোপনে ধারণ করা ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। ভিডিওটি অনলাইনে ভাইরাল না হলে তারা বা তাদের পরিবারের কেউ এই লোমহর্ষক ঘটনাটি জানতে পারত না, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি পদক্ষেপ নিতে বিলম্ব ঘটে।
মামলা রুজু হওয়ার পর পরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তিন কিশোর আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি, ভিকটিম শিশুটিকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তার বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে শিশুটির বিচারিক জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত তিন কিশোরকে বুধবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক শেখ মো. নাসির উদ্দিন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের সাময়িকভাবে ভোলা জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তীতে পুলিশের তত্ত্বাবধানে যশোর কিশোর সংশোধনাগারে স্থানান্তর করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং ভিডিওটি কারা প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
Reporter Name 




















