স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের পর্দা নেমেছে গত রবিবার। তবে প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটলেও আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যাথলেটদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। গেমস শেষে নিজ নিজ দেশে ফেরার কথা থাকলেও উগান্ডা ও পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন অ্যাথলেট রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্কটল্যান্ড পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, উন্নত জীবনের আশায় এবং নিজ দেশে প্রতিকূল পরিস্থিতির আশঙ্কায় তারা যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের পরিকল্পনা করছেন।
ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনবিএস স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উগান্ডা বক্সিং দলের চারজন সদস্য নির্ধারিত সময়ে দেশের উদ্দেশ্যে ফ্লাইটে ওঠেননি। নিখোঁজ এই অ্যাথলেটরা হলেন নুহু বাত্তে, অ্যাঞ্জেল কাটুশাবে, ইব্রাহিম কেমিস এবং এমিলি নাকালেমা। তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্কটল্যান্ড পুলিশ ও ইউকে বর্ডার ফোর্স তদন্ত শুরু করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিখোঁজদের একজন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তারা যুক্তরাজ্যেই রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) প্রার্থনা করার পরিকল্পনা করছেন। তাদের মতে, নিজ দেশে প্রশিক্ষণের অভাব এবং আর্থিক অনিশ্চয়তার চেয়ে যুক্তরাজ্যে থেকে ক্যারিয়ার গড়া এবং উন্নত জীবনযাপন করা অনেক বেশি নিরাপদ।
একই ধরনের সংকটে পড়েছে পাকিস্তান দলও। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘পাকিস্তান টুডে’ জানিয়েছে, দেশটির তরুণ বক্সার কুদরাতউল্লাহও নিজ দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি। পাকিস্তানের ক্রীড়া কর্মকর্তারা হোটেলের কক্ষে গিয়ে তাকে আর খুঁজে পাননি। গ্লাসগো ২০২৬-এর নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাথলেটদের নিজস্ব ইভেন্ট শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবাসন ত্যাগ করার নিয়ম ছিল। কিন্তু কুদরাতউল্লাহ সেই সময়সীমা পার হওয়ার আগেই নিখোঁজ হন। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
গ্লাসগো ২০২৬-এর মুখপাত্র সোফি অ্যাশক্রফট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁরা নিখোঁজ অ্যাথলেটদের বিষয়ে স্কটল্যান্ড পুলিশ, বর্ডার ফোর্স এবং ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “বিগত দুই সপ্তাহে আমরা ৭৪টি দেশের ৩ হাজারেরও বেশি অ্যাথলেটকে স্বাগত জানিয়েছি। ইভেন্ট শেষে প্রত্যেকে যেন নিরাপদে ফিরে যেতে পারেন, তা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। বর্তমানে নিখোঁজদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত চলছে।”
কমনওয়েলথ গেমসে অ্যাথলেটদের এভাবে নিখোঁজ হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া এটিই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৪ সালে যখন গ্লাসগোতে গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখনও একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় উগান্ডার দুই রাগবি খেলোয়াড় ফিলিপ প্যারিও ও লরেন্স সেওয়ালি একইভাবে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাদের কার্ডিফের একটি স্থানীয় ক্লাবে খেলতে দেখা যায়। এছাড়া ক্যামেরুন থেকে আসা ভারোত্তোলক সিরিল চ্যাচেটও সে সময় নিখোঁজ হয়ে পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পান এবং এবারের আসরে তিনি ইংল্যান্ডের প্রতিনিধি হিসেবে রুপা জিতেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিজ দেশে উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধার অভাবই অ্যাথলেটদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। যদিও যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে অ্যাথলেটদের ব্যাকগ্রাউন্ড কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে থাকে, তবুও বড় আসর শেষে এমন ‘আত্মগোপন’ করার ঘটনা গেমসের নিরাপত্তার চেয়েও বড় সামাজিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নিখোঁজ অ্যাথলেটদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
Reporter Name 






















