Dhaka ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে প্রবাসফেরত অসুস্থ স্বামীকে গভীর রাতে রাস্তায় ফেলে গেলেন স্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ Time View

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় কিডনি রোগে আক্রান্ত এক প্রবাসীকে গভীর রাতে গ্রামের রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ১২ বছর প্রবাসজীবন শেষে সর্বস্বান্ত হয়ে দেশে ফেরার পর এই অমানবিক আচরণের শিকার হন জামাল উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে পৈতৃক ভিটেমাটিসহ সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে জামাল উদ্দিন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। দীর্ঘ ১২ বছর প্রবাসে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে উপার্জিত সমস্ত অর্থ তিনি নিয়মিতভাবে স্ত্রী রিনা আক্তারের নামে দেশে পাঠান। কিন্তু সম্প্রতি তার উভয় কিডনি বিকল হয়ে পড়ায় তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় তিন মাস আগে অত্যন্ত অসহায় ও অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর থেকেই জামাল উদ্দিনের চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান তার স্ত্রী ও সন্তানরা। গত শনিবার (১ আগস্ট) দিনগত গভীর রাতে স্ত্রী ও সন্তানরা মিলে তাকে সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামে তার পৈতৃক ভিটার নিকটস্থ একটি রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পুরো রাত বৃষ্টি ও ঠান্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকেন ওই প্রবাসী।

পরদিন রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন তাকে দেখতে পান এবং বিষয়টি জানাজানি হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হলে জামালের ভাতিজি ইসমত আরা মানবিক কারণে এগিয়ে আসেন এবং তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ও আশ্রয়রত রয়েছেন। জামালের ভাই আব্দুল জলিল জানান, বিদেশে যাওয়ার সময় তার কাছ থেকেও চার লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন জামাল, যা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। নিজের সব উপার্জন স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে আজ তিনি চরম দুর্দশার মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন মুমূর্ষু রোগীকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়া চরম অমানবিক। যেহেতু তার স্ত্রীর ঠিকানা অন্য জেলায়, তাই স্থানীয়ভাবে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কিছুটা জটিল হলেও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। এদিকে জামালের ছেলে রায়হান, যিনি একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন, তিনি জানান যে মায়ের সঙ্গে তারও সম্পর্ক ভালো নয় এবং বাবার সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি তার মায়ের এহেন কাজের বিচার দাবি করেছেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

আজকের খেলা: টিভিতে কী কী ম্যাচ এবং সরাসরি সম্প্রচারের সময়সূচি (৫ আগস্ট ২০২৬)

টাঙ্গাইলে প্রবাসফেরত অসুস্থ স্বামীকে গভীর রাতে রাস্তায় ফেলে গেলেন স্ত্রী

Update Time : ০৪:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় কিডনি রোগে আক্রান্ত এক প্রবাসীকে গভীর রাতে গ্রামের রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ ১২ বছর প্রবাসজীবন শেষে সর্বস্বান্ত হয়ে দেশে ফেরার পর এই অমানবিক আচরণের শিকার হন জামাল উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে পৈতৃক ভিটেমাটিসহ সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে জামাল উদ্দিন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। দীর্ঘ ১২ বছর প্রবাসে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে উপার্জিত সমস্ত অর্থ তিনি নিয়মিতভাবে স্ত্রী রিনা আক্তারের নামে দেশে পাঠান। কিন্তু সম্প্রতি তার উভয় কিডনি বিকল হয়ে পড়ায় তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় তিন মাস আগে অত্যন্ত অসহায় ও অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর থেকেই জামাল উদ্দিনের চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান তার স্ত্রী ও সন্তানরা। গত শনিবার (১ আগস্ট) দিনগত গভীর রাতে স্ত্রী ও সন্তানরা মিলে তাকে সখীপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামে তার পৈতৃক ভিটার নিকটস্থ একটি রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পুরো রাত বৃষ্টি ও ঠান্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকেন ওই প্রবাসী।

পরদিন রোববার সকালে স্থানীয় লোকজন তাকে দেখতে পান এবং বিষয়টি জানাজানি হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হলে জামালের ভাতিজি ইসমত আরা মানবিক কারণে এগিয়ে আসেন এবং তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ও আশ্রয়রত রয়েছেন। জামালের ভাই আব্দুল জলিল জানান, বিদেশে যাওয়ার সময় তার কাছ থেকেও চার লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন জামাল, যা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। নিজের সব উপার্জন স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে আজ তিনি চরম দুর্দশার মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন মুমূর্ষু রোগীকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়া চরম অমানবিক। যেহেতু তার স্ত্রীর ঠিকানা অন্য জেলায়, তাই স্থানীয়ভাবে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কিছুটা জটিল হলেও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। এদিকে জামালের ছেলে রায়হান, যিনি একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন, তিনি জানান যে মায়ের সঙ্গে তারও সম্পর্ক ভালো নয় এবং বাবার সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি তার মায়ের এহেন কাজের বিচার দাবি করেছেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।