Dhaka ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার সমুদ্রসৈকতে ড্রোন হামলা: শিশুসহ নিহত ৭, আহত ৪০

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ Time View

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামের অদূরে কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী এই পর্যটন কেন্দ্রে হঠাৎ করেই একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিস্ফোরিত হয়। স্থানীয় রুশ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় তিন শিশুসহ অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এটি বেসামরিক জনগণের ওপর একটি ইচ্ছাকৃত এবং নৃশংস হামলা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ড্রোনটি আছড়ে পড়ার আগে আকাশে গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল, যার ফলে সেটির গতিপথ বদলে গিয়ে সৈকতের জনাকীর্ণ এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ইউক্রেনীয় সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলগুলোর দাবি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কবলে পড়ে ড্রোনটি তার সিগন্যাল বা দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেছিল, যার ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে এটি সাধারণ মানুষের ওপর আঘাত হানে। এ বিষয়ে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

কৃষ্ণ সাগরের এই উপকূলীয় অঞ্চলটি রুশ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়ানদের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ সীমিত হয়ে আসায়, অভ্যন্তরীণ পর্যটনের ক্ষেত্রে ক্রাসনোদার অঞ্চলটি বর্তমানে অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এলাকাটিতে গ্রীষ্মকালে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে, আর এই জনাকীর্ণ পরিস্থিতির সুযোগেই বড় ধরনের হতাহতের ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাসে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা এবং মূল ভূখণ্ডের গভীরে ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা প্রমাণ করেছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা নিয়মিত হামলা পরিচালনা করছে। তবে এসব হামলায় প্রায়ই বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত শনিবার কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জন নিহতের ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এই নিরবচ্ছিন্ন সামরিক সংঘাতের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধের কোনো স্থায়ী সমাধান এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ: বাস্তবতা ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সমীকরণ

রাশিয়ার সমুদ্রসৈকতে ড্রোন হামলা: শিশুসহ নিহত ৭, আহত ৪০

Update Time : ১০:০৪:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আরখিপো-ওসিপোভকা গ্রামের অদূরে কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী এই পর্যটন কেন্দ্রে হঠাৎ করেই একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিস্ফোরিত হয়। স্থানীয় রুশ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় তিন শিশুসহ অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এটি বেসামরিক জনগণের ওপর একটি ইচ্ছাকৃত এবং নৃশংস হামলা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ড্রোনটি আছড়ে পড়ার আগে আকাশে গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল, যার ফলে সেটির গতিপথ বদলে গিয়ে সৈকতের জনাকীর্ণ এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ইউক্রেনীয় সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলগুলোর দাবি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের কবলে পড়ে ড্রোনটি তার সিগন্যাল বা দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলেছিল, যার ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে এটি সাধারণ মানুষের ওপর আঘাত হানে। এ বিষয়ে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

কৃষ্ণ সাগরের এই উপকূলীয় অঞ্চলটি রুশ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়ানদের বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ সীমিত হয়ে আসায়, অভ্যন্তরীণ পর্যটনের ক্ষেত্রে ক্রাসনোদার অঞ্চলটি বর্তমানে অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এলাকাটিতে গ্রীষ্মকালে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে, আর এই জনাকীর্ণ পরিস্থিতির সুযোগেই বড় ধরনের হতাহতের ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাসে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকা এবং মূল ভূখণ্ডের গভীরে ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা প্রমাণ করেছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তারা নিয়মিত হামলা পরিচালনা করছে। তবে এসব হামলায় প্রায়ই বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত শনিবার কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নয়জন নিহতের ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এই নিরবচ্ছিন্ন সামরিক সংঘাতের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধের কোনো স্থায়ী সমাধান এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়।