Dhaka ০১:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া প্রাঙ্গণে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, আহত বহু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩ Time View

রাজধানীর বকশীবাজারের ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া প্রাঙ্গণে আবাসিক হলের দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দিনভর চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যার ফলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে মাদ্রাসার বিভিন্ন হলের সিট বরাদ্দ এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়া নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ৪ আগস্ট সকালের দিকে উভয় পক্ষের অনুসারীরা ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা থেকে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয় এবং দুই পক্ষই লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষের কারণে বকশীবাজার মোড় এবং আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রথমে মাইকে ঘোষণা দিলেও কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। পুলিশের ধাওয়ায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা আশপাশের অলিগলিতে সরে যান। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পরিবর্তে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের এই ধরনের প্রতিযোগিতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার এবং শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এ ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদ্রাসা ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর পাহারা বসিয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ, তবে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

নেত্রকোনায় ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় খালের পানিতে ডুবে কলেজছাত্রের মৃত্যু

বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া প্রাঙ্গণে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, আহত বহু

Update Time : ১১:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর বকশীবাজারের ঐতিহ্যবাহী সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া প্রাঙ্গণে আবাসিক হলের দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দিনভর চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যার ফলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে মাদ্রাসার বিভিন্ন হলের সিট বরাদ্দ এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়া নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ৪ আগস্ট সকালের দিকে উভয় পক্ষের অনুসারীরা ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা থেকে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয় এবং দুই পক্ষই লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষের কারণে বকশীবাজার মোড় এবং আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রথমে মাইকে ঘোষণা দিলেও কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। পুলিশের ধাওয়ায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা আশপাশের অলিগলিতে সরে যান। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার পরিবর্তে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের এই ধরনের প্রতিযোগিতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা অবিলম্বে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার এবং শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এ ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদ্রাসা ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর পাহারা বসিয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ, তবে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে।