বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস উপলক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো এবং জনপ্রিয় খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রাণ মিল্ক ড্রিংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ম্যাজিক্যাল মোমেন্টস উইথ ফ্রেন্ডস’ ক্যাম্পেইনের বিজয়ীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী ১০ জনের প্রত্যেককে একটি করে প্রিমিয়াম স্মার্টওয়াচ এবং প্রাণ মিল্ক ড্রিংকের বিশেষ গিফট বক্স প্রদান করা হয়।
গত বছর বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে এই ব্যতিক্রমী ক্যাম্পেইনটি সাজানো হয়েছিল। আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণ প্রজন্মের মধ্যকার বন্ধুত্বের গভীর বন্ধন, আনন্দময় মুহূর্ত এবং স্মৃতির সুবাসকে সৃজনশীল উপায়ে ফুটিয়ে তোলা। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহীদের বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর সর্বোচ্চ এক মিনিটের ভিডিও ক্লিপ জমা দিতে বলা হয়েছিল। শর্ত অনুযায়ী, ভিডিওগুলোতে প্রাণ মিল্ক ড্রিংকের পরিচিত জিঙ্গেল মিউজিক ব্যবহারের পাশাপাশি পণ্যটি কেনা ও পান করার দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে হয়েছিল। এই সৃজনশীল আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত তরুণ-তরুণী অংশ নেন। বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা ১০ জন বিজয়ী নির্বাচিত হন। বিজয়ীদের তালিকায় ছিলেন ঢাকার সৈয়দ রাহাত হোসেন, আফসানা মিমি, তাসলিমা খান, মেহজাবিন স্নিগ্ধা, সাকিব মাহমুদ, তানজিলা কামাল ও জান্নাত খান; কিশোরগঞ্জের সৈয়দা তাওসিয়া হোসেন; রাজবাড়ীর আসিফ আবির খান এবং চট্টগ্রামের তানজিনা হোসেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন এবং প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক ও হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তাইন কাদের। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে শওকত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বন্ধুত্ব মানে বিপদে-আপদে পাশে থাকা এবং নিঃস্বার্থভাবে একে অপরকে সহযোগিতা করা। বিজয়ী সবার বন্ধুত্ব অটুট থাকুক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রথম আলোর সঙ্গে প্রাণের সম্পর্ক বেশ দীর্ঘস্থায়ী এবং ঘরের নিত্যসঙ্গীর মতো প্রাণের বিভিন্ন পণ্য দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কাছে সমাদৃত।
প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক ও হেড অব মার্কেটিং সৈয়দ মুস্তাইন কাদের তাঁর বক্তব্যে বন্ধুত্বের বৈচিত্র্যের সঙ্গে প্রাণ মিল্ক ড্রিংকের বিভিন্ন সুস্বাদু ফ্লেভারের চমৎকার মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই বৈচিত্র্যময় স্বাদের কারণেই পণ্যটিকে ‘ম্যাজিক্যাল’ বা জাদুকরী বলা হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে চমৎকার একটি মেলবন্ধন তৈরির লক্ষ্যেই এই ক্যাম্পেইনটি হাতে নেওয়া হয়েছিল এবং তরুণদের এই আনন্দের অংশীদার হতে পেরে প্রাণ পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের মননশীল ও তারুণ্যনির্ভর আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রাণ ডেইরি আগ্রহী বলেও তিনি জানান।
পুরস্কার গ্রহণ করার পর নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রতিযোগীরা দারুণ সব স্মৃতির কথা শোনান। ঢাকার বিজয়ী আফসানা মিমি জানান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নানা ধরনের পানীয় থাকে। সেই ভাবনা থেকেই তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গে ভিডিওটি তৈরি করেন, যিনি বিয়ের আগে তাঁর খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। অপর বিজয়ী সৈয়দ রাহাত হোসেন জানান ভিন্ন এক পারিবারিক অভিজ্ঞতা। তাঁর স্ত্রী সাধারণত বাদাম ও দুধ মিশিয়ে বিশেষ পানীয় তৈরি করতেন যা বেশ সময়সাপেক্ষ। এই ক্যাম্পেইনের কল্যাণে তিনি স্ত্রীকে প্রাণ মিল্ক ড্রিংকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সেই সুস্বাদু অভিজ্ঞতাই তাঁরা ভিডিওতে তুলে ধরেছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের ব্র্যান্ড ম্যানেজার ফজলে এলাহী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ডিজিটাল মিডিয়া ম্যানেজার আসিফ ইকবাল, প্রথম আলোর ডিজিটাল মার্কেটিং লিড মেহবুব জাবেদ এবং সহকারী ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ডিজিটাল কনটেন্ট) খায়রুল বাবুই। এই পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের বন্ধুত্বের এক চমৎকার অধ্যায়ের সফল সমাপ্তি ঘটে।
Reporter Name 






















