নেত্রকোনা সদর উপজেলার হরিখালি খাল এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল দেখে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে পালাতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে সাব্বির শেখ (১৯) নামের এক দ্বাদশ শ্রেণির কলেজছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত সাব্বির নেত্রকোনা শহরের মেছুয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় আবু আব্বাছ ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা নাদিম শেখ মেছুয়াবাজারের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পশ্চিম জোনের উপপরিদর্শক (এসআই) রাজন মিয়ার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি দল মোটরসাইকেলে করে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বের হয়েছিল। পথিমধ্যে নেত্রকোনা-আমতলা সড়কের হরিখালি খাল পারাপারের সময় ওই এলাকায় সাব্বিরসহ কয়েকজন তরুণকে আড্ডা দিতে দেখেন পুলিশ সদস্যরা। দূর থেকেই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই তরুণেরা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, তাড়াহুড়ো করে পালাতে গিয়ে সাব্বিরসহ বেশ কয়েকজন তরুণ রাস্তার পাশের গভীর খালের পানিতে পড়ে যান। অন্যরা সাঁতরে কূলে উঠতে সক্ষম হলেও সাঁতার না জানা সাব্বির পানিতে তলিয়ে যান এবং ডুবে মারা যান।
পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন সাব্বিরকে দ্রুত উদ্ধার করে সড়ক তীরে নিয়ে আসেন এবং পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাঁকে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। নেত্রকোনা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাজহারুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সাব্বিরকে হাসপাতালে আনা হয় এবং ইসিজি পরীক্ষার পর তাঁকে মৃত পাওয়া যায়। এ সময় তাঁর পরনের কাপড়চোপড় সম্পূর্ণ ভেজা ছিল। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার এই মৃত্যুর ঘটনাকে রহস্যজনক বলে দাবি করেছে। সাব্বিরের বোন পূর্ণিমা আক্তার জানিয়েছেন, তাঁর ভাই নিয়মিত বাবার ব্যবসায় সাহায্য করতে মেছুয়াবাজারের দোকানে বসত। ঘটনার মাত্র কিছুক্ষণ আগে সে দোকান বন্ধ করে এক বন্ধুর সঙ্গে বাইরে গিয়েছিল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাব্বির কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না এবং কোনো মামলার আসামি বা সন্দেহভাজনও ছিল না। পুলিশকে দেখে কেন তাকে এভাবে প্রাণ হারাতে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রাজন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে জেলা ডিবির পরিদর্শক দেবাংশু কুমার দেব গণমাধ্যমকে জানান, তিনি বর্তমানে একটি মামলার সাক্ষ্যদানের কাজে জেলার বাইরে অবস্থান করছেন। যতটুকু তথ্য তিনি পেয়েছেন, তাতে এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের সরাসরি কোনো গাফিলতি দেখছেন না। অন্যদিকে জেলা পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম জানান, তরুণেরা পুলিশ দেখে কেন আকস্মিকভাবে দৌড় দিয়েছিল, তাদের সঙ্গে কোনো মাদক বা অবৈধ উপাদানের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না এবং পুরো প্রক্রিয়াটিতে কীভাবে ওই কলেজছাত্র পানিতে পড়ে প্রাণ হারাল, সে বিষয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
Reporter Name 


















