Dhaka ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান ও তারেক সাঈদকে হাজির করার নির্দেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার পৃথক দুটি মামলায় বরখাস্তকৃত দুই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সশরীরে হাজির করার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এই দুই কর্মকর্তা হলেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা রয়েছে। গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ প্রদান করেন।

প্রসিকিউশন পক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলার বিশিষ্ট বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন এবং আসাদুজ্জামান বাবুলকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে একটি গুরুতর মামলা দায়ের করা হয়। এ ছাড়াও, একই বছরের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে গুম করার ঘটনায় আরও একটি পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই দুটি চাঞ্চল্যকর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে জিয়াউল আহসান ও তারেক সাঈদের।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী গণমাধ্যমকে জানান যে, বিগত বছরগুলোতে সংঘটিত বিভিন্ন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর ভিত্তিতেই এই দুই আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া জোরপূর্বক গুম, খুন এবং রাজনৈতিক দমনপীড়নের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এসব স্পর্শকাতর ও বর্বরোচিত ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় গতি এনেছে। ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। আগামী ১০ আগস্টের শুনানিতে এই দুই আলোচিত সাবেক সেনাকর্মকর্তার উপস্থিতি এবং আদালতের পরবর্তী কার্যদিবসে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, সেদিকেই এখন দেশবাসীর নজর রয়েছে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

বকশীবাজারে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সংঘর্ষ: আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় থমথমে অবস্থা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জিয়াউল আহসান ও তারেক সাঈদকে হাজির করার নির্দেশ

Update Time : ০২:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার পৃথক দুটি মামলায় বরখাস্তকৃত দুই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সশরীরে হাজির করার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এই দুই কর্মকর্তা হলেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা রয়েছে। গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ প্রদান করেন।

প্রসিকিউশন পক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলার বিশিষ্ট বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন এবং আসাদুজ্জামান বাবুলকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগে একটি গুরুতর মামলা দায়ের করা হয়। এ ছাড়াও, একই বছরের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে গুম করার ঘটনায় আরও একটি পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই দুটি চাঞ্চল্যকর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে জিয়াউল আহসান ও তারেক সাঈদের।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম সাংবাদিকদের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী গণমাধ্যমকে জানান যে, বিগত বছরগুলোতে সংঘটিত বিভিন্ন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর ভিত্তিতেই এই দুই আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া জোরপূর্বক গুম, খুন এবং রাজনৈতিক দমনপীড়নের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এসব স্পর্শকাতর ও বর্বরোচিত ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় গতি এনেছে। ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। আগামী ১০ আগস্টের শুনানিতে এই দুই আলোচিত সাবেক সেনাকর্মকর্তার উপস্থিতি এবং আদালতের পরবর্তী কার্যদিবসে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, সেদিকেই এখন দেশবাসীর নজর রয়েছে।