Dhaka ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাঙালি জাতির ঐক্য, অধিকার ও সাহসের এক অনন্য প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৩৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ Time View

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইউনূস সেন্টারের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। ড. ইউনূস তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন যে, ইতিহাসের পাতায় জুলাই মাসটি দীর্ঘ ছত্রিশ দিনের একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে, যা সমগ্র জাতিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সুতোয় গেঁথেছিল।

বিবৃতির শুরুতেই অধ্যাপক ইউনূস জুলাইয়ের সেই ঐতিহাসিক দিনগুলোতে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা নিজেদের মূল্যবান জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, সেই সব শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি, এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে যারা বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন কিংবা চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ প্রমাণ করেছে যে, আপামর জনসাধারণ যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন যেকোনো স্বৈরাচারী ও দুর্ভেদ্য কাঠামোগত ব্যবস্থাকে নস্যাৎ করা সম্ভব।

বিবৃতিতে ড. ইউনূস শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন। তিনি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, এবং সরকারি-বেসরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী, আলোকচিত্রী, পথচারী, রাজনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দিনমজুর থেকে শুরু করে রিকশাচালক, শ্রমিক, চিকিৎসক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ও তাদের অসীম সাহস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী সমাজ ও তরুণদের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে জুলাইয়ের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস জানান যে, এই আন্দোলন দেশের মানুষকে ঐক্যের প্রকৃত শক্তি উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে। দেশের চলমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে বেগবান করতে জাতিকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদ ভুলে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বার্তাটি শেষ করেন।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

পুরান ঢাকার গোধূলিবেলায় অদ্ভুত এক প্রেম ও রহস্যময় বাস্তবতার গল্প

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাঙালি জাতির ঐক্য, অধিকার ও সাহসের এক অনন্য প্রতীক: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

Update Time : ০৫:৩৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইউনূস সেন্টারের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন। ড. ইউনূস তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন যে, ইতিহাসের পাতায় জুলাই মাসটি দীর্ঘ ছত্রিশ দিনের একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে, যা সমগ্র জাতিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সুতোয় গেঁথেছিল।

বিবৃতির শুরুতেই অধ্যাপক ইউনূস জুলাইয়ের সেই ঐতিহাসিক দিনগুলোতে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা নিজেদের মূল্যবান জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, সেই সব শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি, এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে যারা বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন কিংবা চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ প্রমাণ করেছে যে, আপামর জনসাধারণ যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন যেকোনো স্বৈরাচারী ও দুর্ভেদ্য কাঠামোগত ব্যবস্থাকে নস্যাৎ করা সম্ভব।

বিবৃতিতে ড. ইউনূস শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন। তিনি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, এবং সরকারি-বেসরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী, আলোকচিত্রী, পথচারী, রাজনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, লেখক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দিনমজুর থেকে শুরু করে রিকশাচালক, শ্রমিক, চিকিৎসক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ও তাদের অসীম সাহস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী সমাজ ও তরুণদের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে জুলাইয়ের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস জানান যে, এই আন্দোলন দেশের মানুষকে ঐক্যের প্রকৃত শক্তি উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে। দেশের চলমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে বেগবান করতে জাতিকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদ ভুলে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বার্তাটি শেষ করেন।