Dhaka ০১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ভাই, আমার মার নাম্বারটা লেহেন তো’: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাকিলের বেঁচে ফেরার গল্প

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের উত্তাল পরিবেশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে গুলিবিদ্ধ হন ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. শাকিল আহমেদ। রক্তে ভিজে যাচ্ছিল রাস্তা, দুই হাত-পা ধরে তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি অতি কষ্টে কেবল একটি কথাই বলতে পেরেছিলেন, ‘ভাই, আমার মার নাম্বারটা লেহেন তো…’। সেদিনের সেই আর্তনাদ আজও কাঁদিয়ে যায় মানুষকে। ভিডিওতে তাঁর সেই অসহায় মুহূর্ত দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, এই তরুণ হয়তো আর ফিরবেন না। তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শাকিল আজ বেঁচে আছেন, যদিও শরীর ও মনের ক্ষত আজও শুকায়নি।

শামলীর একটি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল জানান, ঘটনার দিন বাঁ নিতম্বে গুলি লেগে তলপেট ভেদ করে তা ডান পাশের কোমরের কাছ দিয়ে বেরিয়ে যায়। দীর্ঘ দেড় বছর তাঁকে কোলোস্টমি ব্যাগ ব্যবহার করতে হয়েছে, যা তাঁর জীবনকে এক কঠিন বাস্তবতায় রূপ দিয়েছিল। পরবর্তীতে থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো তাঁকে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়। প্রতিনিয়ত ডান পায়ের ঝিমঝিম ভাব এবং শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি মানসিক ট্রমা তাঁকে এখনো তাড়া করে বেড়ায়।

শাকিলের মা মোসাম্মৎ সেলিনা জানান, ছেলে যখন রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল, তখন তিনি আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু অদম্য প্রাণশক্তিতে শাকিল ফিরে আসেন। থাইল্যান্ডে আটটি অস্ত্রোপচারের পর তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও, তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে পুরো চিকিৎসা শেষ না করেই দেশে ফিরতে হয়েছিল। বর্তমানে তিনি সরকারি সহায়তা হিসেবে এককালীন পাঁচ লাখ টাকা এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। এছাড়াও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সহায়তা পেয়েছেন তিনি।

অতীতের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলো স্মরণ করে শাকিল বলেন, আবু সাঈদের মৃত্যু এবং সাভারে লাশ পোড়ানোর ঘটনা তাঁকে তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছিল, যা তাঁকে রাজপথে টেনে নিয়ে আসে। আজ সেই স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর প্রত্যাশা—শুধুমাত্র ভাতা নয়, বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি নতুন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলার মাধ্যমেই সকল শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। বর্তমানে শাকিল পড়াশোনার পাশাপাশি ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং পরিবারের পাশে থেকে জীবনকে নতুন করে সাজাতে চাইছেন।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

যমুনার ভাঙনে বগুড়ার ধুনটে ১২০ মিটার বাঁধ বিলীন, শহরাবাড়ীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে

‘ভাই, আমার মার নাম্বারটা লেহেন তো’: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাকিলের বেঁচে ফেরার গল্প

Update Time : ১২:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের উত্তাল পরিবেশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে গুলিবিদ্ধ হন ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. শাকিল আহমেদ। রক্তে ভিজে যাচ্ছিল রাস্তা, দুই হাত-পা ধরে তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি অতি কষ্টে কেবল একটি কথাই বলতে পেরেছিলেন, ‘ভাই, আমার মার নাম্বারটা লেহেন তো…’। সেদিনের সেই আর্তনাদ আজও কাঁদিয়ে যায় মানুষকে। ভিডিওতে তাঁর সেই অসহায় মুহূর্ত দেখে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, এই তরুণ হয়তো আর ফিরবেন না। তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শাকিল আজ বেঁচে আছেন, যদিও শরীর ও মনের ক্ষত আজও শুকায়নি।

শামলীর একটি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল জানান, ঘটনার দিন বাঁ নিতম্বে গুলি লেগে তলপেট ভেদ করে তা ডান পাশের কোমরের কাছ দিয়ে বেরিয়ে যায়। দীর্ঘ দেড় বছর তাঁকে কোলোস্টমি ব্যাগ ব্যবহার করতে হয়েছে, যা তাঁর জীবনকে এক কঠিন বাস্তবতায় রূপ দিয়েছিল। পরবর্তীতে থাইল্যান্ডে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনো তাঁকে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়। প্রতিনিয়ত ডান পায়ের ঝিমঝিম ভাব এবং শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি মানসিক ট্রমা তাঁকে এখনো তাড়া করে বেড়ায়।

শাকিলের মা মোসাম্মৎ সেলিনা জানান, ছেলে যখন রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল, তখন তিনি আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু অদম্য প্রাণশক্তিতে শাকিল ফিরে আসেন। থাইল্যান্ডে আটটি অস্ত্রোপচারের পর তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও, তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে পুরো চিকিৎসা শেষ না করেই দেশে ফিরতে হয়েছিল। বর্তমানে তিনি সরকারি সহায়তা হিসেবে এককালীন পাঁচ লাখ টাকা এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। এছাড়াও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সহায়তা পেয়েছেন তিনি।

অতীতের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলো স্মরণ করে শাকিল বলেন, আবু সাঈদের মৃত্যু এবং সাভারে লাশ পোড়ানোর ঘটনা তাঁকে তীব্রভাবে নাড়া দিয়েছিল, যা তাঁকে রাজপথে টেনে নিয়ে আসে। আজ সেই স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর প্রত্যাশা—শুধুমাত্র ভাতা নয়, বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি নতুন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলার মাধ্যমেই সকল শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে। বর্তমানে শাকিল পড়াশোনার পাশাপাশি ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং পরিবারের পাশে থেকে জীবনকে নতুন করে সাজাতে চাইছেন।