Dhaka ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়েমেন উপকূলে বিস্ফোরণে ভারতীয় জাহাজ ডুবির ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ Time View

ইয়েমেন উপকূলের কাছে বিস্ফোরকভর্তি নৌযানের হামলায় ভারতের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ সাগরে ডুবে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত জাহাজটিতে থাকা ১৪ জন আরোহীর সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ‘এমএসভি ফাইজ নূরে আউলিয়া’ নামের ওই জাহাজে ১৩ জন ভারতীয় নাগরিক কর্মরত ছিলেন। এই উসকানিমূলক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোনোয়াল জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের জলসীমায় নাবিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার প্রয়োজনীয় সব কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। যদিও এই ভয়াবহ হামলার পেছনে ঠিক কোন গোষ্ঠী বা শক্তি সরাসরি জড়িত, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।

লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জলযানগুলোর ওপর একের পর এক হামলার ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ ঘটনা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মধ্যবর্তী কিছু তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগর ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। এই হামলার পরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি জোরালো বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ ও নির্বিঘ্ন জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব পুনরুত্থান ও নিশ্চিত করা জরুরি।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল ট্যাংকারগুলোর ওপর ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের লাগাতার হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও পণ্যবাহী নৌপরিবহনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় এই হামলার জন্য সরাসরি হুতিদের দায়ী করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি বিশেষ নৌযানের সাহায্যে এই নাশকতামূলক হামলা চালানো হয়েছে। তবে হুতি বিদ্রোহীরা এই ঘটনার দায় স্বীকার করে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে যে গত সপ্তাহজুড়ে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার খবর পাওয়া গেছে।

চলমান এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে—এমন ইতিবাচক আশাবাদের মুখে চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দ্রুতই একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। তবে ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করছে না, বরং ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর নতুন করে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

অনুমতি ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের ছবি প্রকাশ কি ডিজিটাল যুগে অভদ্রতা বা সাইবার অপরাধ?

ইয়েমেন উপকূলে বিস্ফোরণে ভারতীয় জাহাজ ডুবির ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

Update Time : ১০:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

ইয়েমেন উপকূলের কাছে বিস্ফোরকভর্তি নৌযানের হামলায় ভারতের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ সাগরে ডুবে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত জাহাজটিতে থাকা ১৪ জন আরোহীর সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ‘এমএসভি ফাইজ নূরে আউলিয়া’ নামের ওই জাহাজে ১৩ জন ভারতীয় নাগরিক কর্মরত ছিলেন। এই উসকানিমূলক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোনোয়াল জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলের জলসীমায় নাবিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার প্রয়োজনীয় সব কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। যদিও এই ভয়াবহ হামলার পেছনে ঠিক কোন গোষ্ঠী বা শক্তি সরাসরি জড়িত, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।

লোহিত সাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জলযানগুলোর ওপর একের পর এক হামলার ধারাবাহিকতায় এটি সর্বশেষ ঘটনা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মধ্যবর্তী কিছু তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগর ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। এই হামলার পরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি জোরালো বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ ও নির্বিঘ্ন জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব পুনরুত্থান ও নিশ্চিত করা জরুরি।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল ট্যাংকারগুলোর ওপর ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের লাগাতার হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও পণ্যবাহী নৌপরিবহনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় এই হামলার জন্য সরাসরি হুতিদের দায়ী করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি বিশেষ নৌযানের সাহায্যে এই নাশকতামূলক হামলা চালানো হয়েছে। তবে হুতি বিদ্রোহীরা এই ঘটনার দায় স্বীকার করে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে যে গত সপ্তাহজুড়ে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বেশ কয়েকটি হামলার খবর পাওয়া গেছে।

চলমান এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে—এমন ইতিবাচক আশাবাদের মুখে চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দ্রুতই একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। তবে ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করছে না, বরং ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর নতুন করে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।