Dhaka ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনুমতি ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের ছবি প্রকাশ কি ডিজিটাল যুগে অভদ্রতা বা সাইবার অপরাধ?

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অংশ দখল করে আছে সোশ্যাল মিডিয়া। কোথাও ঘুরতে যাওয়া, সুস্বাদু খাবার খাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করে তা মুহূর্তে ইন্টারনেটে আপলোড করা এখন একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, অন্য কারও ছবি অনলাইনে প্রকাশ করার আগে তার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হচ্ছে কি না এবং তা না করাটা একধরনের সামাজিক অভদ্রতা বা গোপনীয়তার লঙ্ঘন কি না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে কোনো ছবি একবার পোস্ট করলে তা ডিজিটাল দুনিয়ায় স্থায়ী হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যে কেউ স্ক্রিনশট বা মেটাডেটা ব্যবহার করে সেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ২০১১ সালে কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখান যে, মুখের ছবি ব্যবহার করে ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য বের করা সম্ভব। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ক্লিয়ারভিউ এআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের বিলিয়ন বিলিয়ন ছবি নিজেদের ডেটাবেজে সংরক্ষণ করেছে। ফলে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সাধারণ মুহূর্তের ছবিও আজ পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়।

সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন ছাড়াও এর পেছনে থাকে ব্যক্তিগত মনস্তত্ত্ব। অনেক মানুষ কঠিন মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন, কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে নিজেদের ছবি ইন্টারনেটে দেখতে চান না। এমন পরিস্থিতিতে কারও ইচ্ছাকে অবজ্ঞা করে ছবি পোস্ট করা মোتهই সমীচীন নয়। যদিও কনসার্ট বা জনাকীর্ণ জনসমাবেশে শত শত মানুষের ভিড়ে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অনুমতি নেওয়া অসম্ভব, তবে ব্যক্তিগত বা ঘনিষ্ঠ মহলের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকদের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।

ডিজিটাল নৈতিকতা নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের পরামর্শ হলো, কাউকে না জানিয়ে ছবি পোস্ট করার অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত। যদি কোনো ব্যক্তি তার ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন, তবে কোনো ক্ষোভ বা অজুহাত না দেখিয়ে তা অবিলম্বে মুছে ফেলা উচিত। ছবি মুছে ফেললেও ফোনের অ্যালবামে সেই স্মৃতি ঠিকই সংরক্ষিত থাকে। নিজের ছবি অনলাইনে দেখতে না চাওয়া কোনো অপরাধ বা অস্বাভাবিকতা নয়, বরং এটি নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করার একটি সচেতন এবং আধুনিক সিদ্ধান্ত।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

ফিফায় তীব্র নেতৃত্ব সংকট: মরক্কোয় ইনফান্তিনোর জরুরি বৈঠক ও ব্ল্যাকমেলের বিস্ফোরক অভিযোগ

অনুমতি ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের ছবি প্রকাশ কি ডিজিটাল যুগে অভদ্রতা বা সাইবার অপরাধ?

Update Time : ১০:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অংশ দখল করে আছে সোশ্যাল মিডিয়া। কোথাও ঘুরতে যাওয়া, সুস্বাদু খাবার খাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করে তা মুহূর্তে ইন্টারনেটে আপলোড করা এখন একটি সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, অন্য কারও ছবি অনলাইনে প্রকাশ করার আগে তার কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হচ্ছে কি না এবং তা না করাটা একধরনের সামাজিক অভদ্রতা বা গোপনীয়তার লঙ্ঘন কি না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে কোনো ছবি একবার পোস্ট করলে তা ডিজিটাল দুনিয়ায় স্থায়ী হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যে কেউ স্ক্রিনশট বা মেটাডেটা ব্যবহার করে সেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ২০১১ সালে কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দেখান যে, মুখের ছবি ব্যবহার করে ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য বের করা সম্ভব। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ক্লিয়ারভিউ এআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের বিলিয়ন বিলিয়ন ছবি নিজেদের ডেটাবেজে সংরক্ষণ করেছে। ফলে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সাধারণ মুহূর্তের ছবিও আজ পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়।

সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্ন ছাড়াও এর পেছনে থাকে ব্যক্তিগত মনস্তত্ত্ব। অনেক মানুষ কঠিন মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন, কিংবা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে নিজেদের ছবি ইন্টারনেটে দেখতে চান না। এমন পরিস্থিতিতে কারও ইচ্ছাকে অবজ্ঞা করে ছবি পোস্ট করা মোتهই সমীচীন নয়। যদিও কনসার্ট বা জনাকীর্ণ জনসমাবেশে শত শত মানুষের ভিড়ে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অনুমতি নেওয়া অসম্ভব, তবে ব্যক্তিগত বা ঘনিষ্ঠ মহলের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকদের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।

ডিজিটাল নৈতিকতা নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের পরামর্শ হলো, কাউকে না জানিয়ে ছবি পোস্ট করার অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত। যদি কোনো ব্যক্তি তার ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন, তবে কোনো ক্ষোভ বা অজুহাত না দেখিয়ে তা অবিলম্বে মুছে ফেলা উচিত। ছবি মুছে ফেললেও ফোনের অ্যালবামে সেই স্মৃতি ঠিকই সংরক্ষিত থাকে। নিজের ছবি অনলাইনে দেখতে না চাওয়া কোনো অপরাধ বা অস্বাভাবিকতা নয়, বরং এটি নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করার একটি সচেতন এবং আধুনিক সিদ্ধান্ত।