Dhaka ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতে আগের রিট খারিজের তথ্য গোপণ: আবেদনকারী ও আইনজীবীকে শোকজ এবং বড় অঙ্কের জরিমানার নির্দেশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ Time View

আদালতে রিট খারিজের তথ্য গোপন করার গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিটকারী ও তাঁর আইজীবীকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রিট আবেদনকারীকে ৫০ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে ১০ লাখ টাকা কেন জরিমানা করা হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে এই দুই পক্ষকে লিখিতভাবে আদালতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (আজ) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা এবং আদালতের সঙ্গে তথ্য গোপনের মতো অনভিপ্রেত প্রবণতা রোধে এই কড়া অবস্থান নিয়েছে উচ্চ আদালত।

আইনজীবীদের সূত্র এবং রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায়, পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থঋণ আদালতের একটি আদেশকে কেন্দ্র করে। আমান ট্রেডিং করপোরেশনের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা অংশীদার (ম্যানেজিং পার্টনার) মো. রফিকুল ইসলাম ওই আদালতের একটি আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে প্রথম রিটটি দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে আইনি মারপ্যাঁচ ও নানামুখী কৌশল অবলম্বনের উদ্দেশ্যে একই আদেশের বৈধতা নিয়ে আরও একটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়। অথচ নিয়ম অনুযায়ী প্রথম রিটটি উচ্চ আদালতের অন্য একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির পর পুরোপুরি খারিজ হয়ে গিয়েছিল, যা দ্বিতীয় রিট করার সময় সুকৌশলে চেপে যাওয়া হয়।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় রিটের ধারাবাহিকতায় জারিকৃত রুলের শুনানি হাইকোর্টের এই নতুন বেঞ্চে কার্যতালিকাভুক্ত হয়। শুনানিকালে প্রাইম ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতের নজরে আনেন যে, একই বিষয় নিয়ে ইতিপূর্বে আরেকটি রিট করা হয়েছিল এবং তা খারিজ হয়ে যাওয়ার তথ্যটি বর্তমান আবেদনে সম্পূর্ণ গোপন করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই এই বিষয়ে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং আদালত আজকের দিনটি আদেশের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে বিচারকবৃন্দ এই কঠোর অবস্থান নেন।

আদালতের এই আদেশের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান গণমাধ্যমকে বলেন, রিট আবেদনকারী মো. রফিকুল ইসলাম এবং তাঁর আইনজীবী মোয়া আনোয়ার হোসেন উভয়ই শুনানির সময় সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত তাদের দ্বৈত রিট করার অপচেষ্টা এবং প্রথম রিট খারিজের তথ্য গোপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী নিজেও আগের রিট খারিজের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং আদালতের সামনে তা একপ্রকার স্বীকারও করেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিচার ব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষার্থে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক শোকজ ও আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিচারালয়ের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনি বিশেষজ্ঞরা।

Write Your Comment

About Author Information

Popular Post

কানাডার হাসপাতালে জিবরীলের সঙ্গে ৬ দিন: এক মায়ের কঠিন সংগ্রামের গল্প

আদালতে আগের রিট খারিজের তথ্য গোপণ: আবেদনকারী ও আইনজীবীকে শোকজ এবং বড় অঙ্কের জরিমানার নির্দেশ

Update Time : ০৪:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

আদালতে রিট খারিজের তথ্য গোপন করার গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিটকারী ও তাঁর আইজীবীকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রিট আবেদনকারীকে ৫০ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে ১০ লাখ টাকা কেন জরিমানা করা হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে এই দুই পক্ষকে লিখিতভাবে আদালতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (আজ) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা এবং আদালতের সঙ্গে তথ্য গোপনের মতো অনভিপ্রেত প্রবণতা রোধে এই কড়া অবস্থান নিয়েছে উচ্চ আদালত।

আইনজীবীদের সূত্র এবং রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য বিবরণী থেকে জানা যায়, পুরো ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অর্থঋণ আদালতের একটি আদেশকে কেন্দ্র করে। আমান ট্রেডিং করপোরেশনের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা অংশীদার (ম্যানেজিং পার্টনার) মো. রফিকুল ইসলাম ওই আদালতের একটি আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে প্রথম রিটটি দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে আইনি মারপ্যাঁচ ও নানামুখী কৌশল অবলম্বনের উদ্দেশ্যে একই আদেশের বৈধতা নিয়ে আরও একটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়। অথচ নিয়ম অনুযায়ী প্রথম রিটটি উচ্চ আদালতের অন্য একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির পর পুরোপুরি খারিজ হয়ে গিয়েছিল, যা দ্বিতীয় রিট করার সময় সুকৌশলে চেপে যাওয়া হয়।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় রিটের ধারাবাহিকতায় জারিকৃত রুলের শুনানি হাইকোর্টের এই নতুন বেঞ্চে কার্যতালিকাভুক্ত হয়। শুনানিকালে প্রাইম ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতের নজরে আনেন যে, একই বিষয় নিয়ে ইতিপূর্বে আরেকটি রিট করা হয়েছিল এবং তা খারিজ হয়ে যাওয়ার তথ্যটি বর্তমান আবেদনে সম্পূর্ণ গোপন করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই এই বিষয়ে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং আদালত আজকের দিনটি আদেশের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে বিচারকবৃন্দ এই কঠোর অবস্থান নেন।

আদালতের এই আদেশের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান গণমাধ্যমকে বলেন, রিট আবেদনকারী মো. রফিকুল ইসলাম এবং তাঁর আইনজীবী মোয়া আনোয়ার হোসেন উভয়ই শুনানির সময় সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত তাদের দ্বৈত রিট করার অপচেষ্টা এবং প্রথম রিট খারিজের তথ্য গোপনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী নিজেও আগের রিট খারিজের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং আদালতের সামনে তা একপ্রকার স্বীকারও করেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিচার ব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষার্থে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক শোকজ ও আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিচারালয়ের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনি বিশেষজ্ঞরা।